মধ্য পৌষে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা মিলছে না। বিনা প্রয়োজনে দুপুর ১২টার আগে কেউ ঘর থেকে বাইরে পা ফেলার সাহস করছে না। এমন তীব্র শীতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে জেলার ৬ উপজেলার কমপক্ষে চার হাজার নরসুন্দর কর্মী। (নাপিত)। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রী থেকে ১৩ ডিগ্রী পর্যন্ত উঠানামা করছে।
কথা হয় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মিয়ার সঙ্গে। তিনি মুঠোফোনে বলেন, এমন অবস্থা আরও দুই একদিন বিরাজ করবে।
সন্ধ্যার পর ঘন কুয়াশায় পথঘাট ঢাকা পড়ছে। দিনের বেলায়েও যান্ত্রিক যানগুলো লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাস বয়স্ক ও শিশুদের চরমভাবে কাবু করে ফেলেছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যম আয়ের মানুষরা শিশু ও বৃদ্ধ বাবা মার জন্য রুম হিটার কিনছে। কারো রুম হিটার কেনার সামর্থ্য না থাকলেও সেইসব মানুষ বেশি পাওয়ারের বৈদ্যুতিক বাল্ব ঘরে জ্বালিয়ে রাখছে উষ্ণতা বাড়ানোর জন্য। এমন করেই অনেক শিশু ও সিনিয়র সিটিজেনদের শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে শিশুদের নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। শিশু চিকিৎসকদের চেম্বারে সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আশা রোগাক্রান্ত শিশুর বাবা মাদের দেখা মিলছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ করতে দেখা গেলেও উপজেলাগুলোতে সরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের অফিস সূত্র জানিয়েছে। পৌষের হিমেল হাওয়ায় বলতে গেলে পুরোপুরি কাজহীন হয়ে দিন পার করছে নরসুন্দর কর্মীরা। জেলার সবকটি উপজেলা মিলে প্রায় ৫০০র বেশি সেলুন দোকান রয়েছে। এসব দোকান মালিকসহ গড়ে ৬ থেকে ১০ জন নরসুন্দর কর্মী কাজ করে প্রতি দোকানে। সেই হিসাবে গোটা জেলা মিলে চার হাজার নরসুন্দর কর্মী শীতের তীব্রতায় কাজ হারা হয়েছে।
কথা হয় বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের সৌখিন হেয়ার কাটিং সেলুনের মালিক ও নরসুন্দর কল্যান সমিতির সাবেক নেতা রঞ্জিত ঠাকুরের সঙ্গে। তিনি জানান, সব ব্যবসার একটা মওসুম আছে। যেমন শীতকালে গরম কাপড়ের ব্যবসায়ীদের কপাল খুলে যায়। তাদের কাছে পৌষ মাস তথা শীতকাল মানে আশির্বাদ। কিন্তু নাপিতের দোকানে এই সময়ে কাজে ধ্বস নামে। খুউব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ দাড়ি ও চুল কাটতে আসে না। তার মতে, অনেকে গালে কিংবা মাথায় পানির ছিটা সহ্য করতে পারে না। অথচ ক্ষৌর কাজে প্রধানতঃ পানির ব্যবহার হয়। তাছাড়াও চুল বা দাঁড়ি কাটলেই তাকে গোসল করতে হবে। কিন্তু শীতের তীব্রতা থাকলে মানুষ দুইদিন তিনদিন পর পর গোসল করে। ফলে শীতের মওসুমে নরসুন্দর কর্মীরা গড়ে তিন মাস বেকার হয়ে থাকে। তার মতে ইলিশ মাছের প্রজননকালে যেমন জেলেদের সরকার থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় তেমনি শীতকালে নরসুন্দর পেশায় জড়িতদের সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলে এসব হতদরিদ্র মানুষরা একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতো।
নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, খুব শিগগির উপজেলাগুলোতে সরকারিভাবে পাওয়া শীতবস্ত্র পাঠানো হবে। সেই সময়ে দুঃস্থ পরিবারদের মাঝে বিতরণ করা হবে শীতবস্ত্র।



