রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশপদ্মায় জেগে উঠেছে বিশাল চর, দখলের আশঙ্কা

পদ্মায় জেগে উঠেছে বিশাল চর, দখলের আশঙ্কা

প্রতিনিধি, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

সম্পর্কিত সংবাদ

পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠেছে বিশাল এক চর। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর নতুন করে জেগে ওঠা এই ভূমি নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মনে ফিরিয়ে এনেছে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। একসময় যে পদ্মা রাক্ষুসে রূপে গ্রাস করেছিল বসতভিটা ও ফসলি জমি, আজ সেই নদীই ফিরিয়ে দিচ্ছে বিস্তীর্ণ বালুচর।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাবেক লৌহজং ইউনিয়নের পাটলি ও গাউপাড়া মৌজা, কুমারভোগ ইউনিয়নের রানিগাঁও ও খড়িয়া মৌজা, গাঁওদিয়া ইউনিয়নের রানাদিয়া মৌজা এবং শরীয়তপুর জেলার কলিকাল ও আডম মৌজার সীমানা ঘেঁষে পদ্মার বুকে এই চর জেগে উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, চরের মাটি উর্বর এবং চাষাবাদের জন্য উপযোগী। ইতোমধ্যে কেউ কেউ সেখানে যাতায়াত শুরু করেছেন, কোথাও কোথাও চাষের প্রস্তুতিও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নব্বই দশকের শেষভাগে ভয়াবহ নদীভাঙনে এই জনপদগুলো এক রাতেই মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছিল। ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও শৈশবের স্মৃতি হারিয়ে বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল বাঁধ ও রাস্তার ধারে। প্রায় ৩০ বছর পর সেই মানুষগুলোর চোখে এখন নতুন আশার আলো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধু ধু বালুচরের কিছু অংশে ইতোমধ্যে ঘাস জন্মাতে শুরু করেছে। অনেকেই নিজেদের পুরনো সীমানা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। চর জেগে ওঠার পর শতাধিক মানুষ দলবদ্ধভাবে সেখানে গিয়ে মাপজোখও করেছেন। চরের সঠিক আয়তন নির্ধারিত না হলেও বেসরকারি সূত্রের দাবি, এখানে দুই হাজার একরের বেশি জমি রয়েছে।
নদীভাঙনের শিকার খালেক মিয়া বলেন, ৩০ বছর আগে এই নদী আমার সব নিয়ে গিয়েছিল। ভাবিনি জীবদ্দশায় আবার নিজের মাটির দেখা পাব। এখন শুধু চাই, সরকার যেন আইনিভাবে আমাদের জমি ফিরে পেতে সহায়তা করে। রানিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোশারফও একই আশা প্রকাশ করেন।
সাবেক রানাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান, এসএ রেকর্ডের পর ১৯৯৫ সালে লৌহজং উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। প্রায় ৩০ বছর পর পদ্মা নদীতে আবার চর জেগেছে। তার দাবি অনুযায়ী, পাটলি মৌজার ৫০ ভাগ, গাউপাড়ার ৬০ ভাগ, গাঁওদিয়ার ২৫ ভাগ এবং রানাদিয়া মৌজার ২৫ ভাগ জমি নতুন করে জেগে উঠেছে। বর্তমানে আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিকরা তাদের পৈতৃক জমি চিহ্নিত করে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চর শুধু আবেগের জায়গা নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। পরিকল্পিতভাবে কৃষিকাজ হলে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। তবে জমি দখলকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সতর্ক নজর প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, পদ্মায় জেগে ওঠা চরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর