শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশমাদারগঞ্জে ২০১ স্কুলের ১১৬টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

মাদারগঞ্জে ২০১ স্কুলের ১১৬টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রতিনিধি, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

সম্পর্কিত সংবাদ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। একইভাবে ২৯টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে। আর অন্যান্য সহকারী শিক্ষকের ওপর বাড়তি চাপ দিয়ে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে সহকারী শিক্ষকের কাজ। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমে যাচ্ছে শিক্ষার মান।
সহকারী শিক্ষকের ওপর বাড়তি চাপ দিয়ে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে সহকারী শিক্ষকের কাজ। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমে যাচ্ছে শিক্ষার মান।
এসব সংকট নিরসনে মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকের শূন্য পদের চিত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শূন্যপদে শিক্ষক পদায়ন হয়নি। একটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ মোট ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১১৬টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আর বাকি ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন ৭৯ জন শিক্ষক।
এ বিষয়ে ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের রুকনাই গ্রামের শিক্ষার্থী অভিভাবক খবিরুল ইসলাম মেম্বার সংবাদকে জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিঘ্ন হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ সংবাদকে জানান, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলায় ঘোরাঘুরি করতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা এসব কাজ করতে গেলে সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করে না। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। তাছাড়া অন্য শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মেনে চলছেন না। ফলে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শওকত আলী সংবাদকে জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। একজন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের কাজ করতে হয়।
এতে একদিকে যেমন শিক্ষার মানোন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদান থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা নেয়া এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন সংবাদকে জানান, অবসর, অন্যত্র বদলি, মৃত্যু ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য রয়েছে। যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে তাদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সম্প্রতি

আরও খবর