রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরঅর্থ-বাণিজ্যনতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে কমিশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার— এমনটি জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য দেন তিনি।

গত ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি পে কমিশন গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেলের ভিত্তিতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতেই নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চালের দাম এখন তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। যাতায়াত খরচ ও বাড়িভাড়ার হার বেড়ে যাওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেন।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। জানান, ইউরিয়া ও টিএসপি সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সেদ্ধ চাল আমদানির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো খাদ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা। তার মতে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ৩০ নভেম্বর থেকে সরকার আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবে। এবার প্রতি কেজি ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ টাকা, আতপ চাল ৪৯ টাকা এবং সেদ্ধ চাল ৫০ টাকা। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা হলো ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান ও আতপ চাল এবং ৬ লাখ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করা।

আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের একটি মিশন বাংলাদেশে এসে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমএফকে জানিয়েছি, আপাতত আমাদের ঋণের কিস্তি প্রয়োজন নেই। তারা আগে পর্যালোচনা করুক। নির্বাচিত সরকার কতটা ঋণ নিতে চায়, সেটি নিয়ে ফেব্রুয়ারির মিশনে আলোচনা হবে, এরপর ঋণ ছাড়ের সিদ্ধান্ত আসবে।’

আইএমএফ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানান সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, সংস্থাটি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

তার ভাষায়, “আগামী সরকারকে আইএমএফের ঋণ, সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি করে দেওয়া হবে।”

সম্প্রতি

আরও খবর