দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রেসিডিয়াম সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে লিবারেল ডেমোক্রিটিক পার্টি (এলডিপি)।
শনিবার দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এলডিপির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে দলের সব পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সম্পর্কে একটি অত্যন্ত ‘বিভ্রান্তিকর’ পোস্ট দেন। এলডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই বক্তব্য দলটির কোনো সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ নয়। বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়টি এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল কয়েকশ সমর্থক নিয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি আলোচিত মামলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ‘উপদেষ্টা’ পরিচয়ে মিঞা জাহিদুল ইসলাম আরেফী নামে এক মার্কিন নাগরিক বিএনপি কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই ঘটনায় করা মামলায় একই বছরের ৩১ অক্টোবর চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন এবং চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ওই ব্যক্তিকে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর বাড়ি চট্টগ্রামে। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ডেন্ট, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডক্ট্রাইন কমান্ডের (এআরটিডিওসি) জিওসি, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।



