শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
হোমখবরঅর্থ-বাণিজ্যশীতের সবজির দাম কমলেও বাড়তি মাছের দাম

শীতের সবজির দাম কমলেও বাড়তি মাছের দাম

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

সম্পর্কিত সংবাদ

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতের সবজির সরবরাহ বেশ কিছুদিন ধরে বেড়েছে। তাই দামও কিছুটা নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে তারা বলছে, এই মৌসুমে দাম আরও কমার কথা। আর পুরোপুরি নাগালে না এলেও দাম কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের। তবে মাছ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। শুক্রবার,(২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার অধিকাংশ সবজি পাওয়া গেছে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে

নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়

আগের বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে অধিকাংশ মাছ

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার ঢাকায় বেশ শীত অনুভূত হওয়ায় বাজারগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গ্রাহকের নাগালে চলে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকানে এখন থরে থরে সাজানো নতুন সবজি। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও প্রয়োজন মতো সবজি কিনতে পারছেন। দোকানগুলোতে শীতের সবজির বড় জায়গাজুড়ে থাকে বাঁধাকপি ও ফুলকপি। মাঝারি আকারের একেকটি বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে বাজার ও মানভেদে ২০-৩০ টাকার মধ্যে যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩০ টাকার বেশি। একইভাবে কমেছে ফুলকপির দাম। আকারভেদে একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকায়।

শুক্রবার বাজারে শিমের দামও কমেছে। এখন অন্তত চার ধরনের শিম পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে নতুন আসা বিচিওয়ালা শিম ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের শিম ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে।

মাত্র দু-তিন সপ্তাহ আগেই প্রতি কেজি নতুন আলু ১০০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। মুলার কেজি বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকায়।

পাকা টমেটোর দাম কমলেও এখনও গ্রাহকের নাগালে আসেনি। প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকার মধ্যে। তবে শাকের দাম কমেছে। পালং শাক, লাল শাক ও মুলা শাকের আটি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকার মধ্যে।

সবজির দাম কিছুটা কমেছে জানিয়ে সবুজ হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সবজির দাম খুবই বাড়তি ছিল। সেই তুলনায় এখন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শীতের সময় হিসেবে আরও কমা উচিত ছিল সবজির দাম। সারা বছর তো বাড়তি দামে এসব কিনে খেলাম, কিন্তু সবজির ভরপুর মৌসুম এই শীতে সবজির দাম গ্রামগঞ্জে একেবারেই কম। সেই তুলনায় ঢাকায় আরেকটু দাম কমলে বেশি ভালো হতো। তবে আগে যে সবজির উচ্চ মূল্য ছিল সেটি কিছুটা কমে এখন শীতের ছোঁয়া লেগেছে সবজির বাজারে।’

অন্যদিকে, পুরনো পেঁয়াজের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি হলেও প্রতি কেজি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজিও এখন ৭০-৭৫ টাকা। অর্থাৎ, গত দু-তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেক কমেছে।

এদিকে শুক্রবার অধিকাংশ মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ আকার ভেদে ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাবদা প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকায়, রুই মাছ (মাঝারি) প্রতি কেজি ৩২০-৩৫০ টাকায়, কই মাছ প্রতি কেজি ২৫০-২৮০ টাকা, প্রতি কেজি চাষের শিং মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, বড় চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০-১০০০ টাকা, পাঙাস প্রতি কেজি ১৭০-২০০ টাকা, শোল প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, টেংড়া প্রতি কেজি ৫০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছ ক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ মাছের দামই বাড়তি। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলছে। হাতেগোনা কয়েক প্রকার মাছ ছাড়া সব মাছই বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

এছাড়া ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায়, সোনালী প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, লেয়ার প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৬০০-৬৫০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ১১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মিলন হোসেন নামের একজন ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘দাম বাড়তির কারণে মাংস কেনা হয় না। শেষ কবে যে গরুর মাংস কিনেছি মনে নেই। ছেলেমেয়েরা মাংস খেতে চাইলে ব্রয়লার মুরগি কিনে নিয়ে যাই। মাঝে মধ্যে ব্রয়লার মুরগিরও দাম বেড়ে যায়। তখন সেটাও কিনতে পারি না।’

সম্প্রতি

আরও খবর