দীর্ঘ ১২ বছর পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধানের নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতি সহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিদেন দাখিল করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ^বিদ্যালয় জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্টার মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী।
বেরোবির প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেবার জন্য আবেদন পত্র আহবান করা হয়। সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ মাহমুদুলহক। কিন্তু তাকে নিয়োগ না দিয়ে অবৈধভাবে জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ হাতিয়ে নেন একই বিভাগের তাবিউর রহমান প্রধান। এরপর জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তাবিউর রহমান প্রধান দুদফা পদোন্নতী বাগিয়ে নিয়ে এখন সহযোগী অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। অবশেষে দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে হাইকোর্টের নির্দ্দেশে মাহমুদুলহককে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয় বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। তিনি বর্তমানে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এদিকে শিক্ষক মাহমুদুল হক অপর শিক্ষক তাবিউর রহমানের নিয়োগ অবৈধ এবং জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার জোষ্ঠতা প্রদানসহ সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান এবং তাবিউর রহমানের অবৈধ নিয়োগ বাতিল করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সরকারী সাধারন বিশ^বিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শতরুপা তালুকদার স্বাক্ষরিত এক নির্দ্দেশ জারি করা হয়। যার স্মারক নম্বর ২০ তারিখ ১৬/১/২৪ইং। আদেশনামায় উল্লেখ করা হয় যে, বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ২০১২ইং সালে নিয়োগের তারিখ থেকে জোষ্ঠতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়নি। একই সময়ে উক্ত বিভাগে জ¦ালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে তাবিউর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পুর্ব্বক প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য বিশ^বিদ্যালয় মজ্ঞুরী কমিশন (ইউজিসি)কে নির্দ্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে ইউজিসির কাছ থেকে জলিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমানের নিয়োগসহ সার্বিক বিষয়ে নির্দ্দেশনা পেয়ে রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির আহবায়ক করা হয় বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহাম্মেদ , সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড, আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ও বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী। যার স্মারক নম্বর ১১৫ তারিখ ২৮.১.২৪ইং।
তদন্ত কমিটি গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২ সালের নিয়োগ সম্পর্কে সকল কাগজ পত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তাবিউর রহমান প্রধানকে অবৈধ ভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রকৌশলী আলম চৌধুরী ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দুজনেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বুধবার বিকেলে এ প্রতিনিধিকে জানান তাবিউর রহমানের নিয়োগ অবৈধ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে দুদককেও তিনি আলাদা ভাবে অভিযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন একজন অবৈধ ব্যাক্তি কিভাবে ১২ বছর ধরে বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে এটা তার প্রশ্ন। অপরদিকে অপর শিক্ষক তাবিউর রহমানের সাথে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় কথা বলা যায়নি।



