জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবার যদি মামলা করে তবেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া যাবে।
তবে গতকাল রাতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কারের পর দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আইনুল ইসলাম বলেন, ’গ্রেপ্তারের নির্দেশ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে নেই। গ্রেপ্তারটা হলো আইনের বিষয়। তার পরিবার থেকে যদি মামলা করে তাহলে পুলিশ মামলা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে। প্রেস রিলিজে এটা দেওয়া ঠিক হয়নি। গতকাল রাতে আইন সংস্থার লোকজন ছিল, তাদের হয়ত বলেছে। এর বেশি কিছু নয়।’
গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুতে উপাচার্য সাদেকা হালিম, কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার সুইসাইড নোটে দেয়া আইন বিভাগের সহপাঠীকে সাময়িক বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’
তবে এ বিজ্ঞপ্তিতে শুধুমাত্র নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, আদেশ নয় বলে আজ বলেছেন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দোষীদের আইনের আওতায় আনতে। তাই নির্দেশনা বোঝাতে এটা বলা হয়েছে। আমরা তো আদেশ দিতে পারি না, শুধু নির্দেশনা বুঝানো হয়েছে।’
তবে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. তানভীর আহসান বলেন, ‘কথাটি আসলে নির্দেশনা হবেনা, এটা রূপক অর্থে বুঝিয়েছে। তখন আসলে এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যে তড়িৎ সব করতে হয়েছে। সবকিছু পরিষ্কার করে বলতে গেলে অনেক বিষয় যুক্ত করতে হতো। গ্রেফতার করার নির্দেশনা দেয়ার এখতিয়ার শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আছে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যতটুকু করার কথা চেষ্টা করেছে এবং চেষ্টা করে যাবে। ফৌজদারী যে অংশটুকু বিশ্ববিদ্যালয় সেটা করতে পারেনা।’
গতকাল শুক্রবার ফাইরুজ অবন্তিকা কুমিল্লায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। মৃত্যুর আগে এক ফেসবুক পোস্টে নিজের মৃত্যুর জন্য সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দীন ইসলামকে দায়ী করেন।



