Thursday, March 5, 2026
হোমখবরক্যাম্পাসচাকসু নির্বাচনে একচেটিয়া জয় শিবিরের

চাকসু নির্বাচনে একচেটিয়া জয় শিবিরের

সম্পর্কিত সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে একচেটিয়া জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে বুধবার ভোরে ফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই বিজয়ী হয়েছে শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। এর মাধ্যমে ৪৪ বছর পর চাকসুতে প্রত্যাবর্তন ঘটল সংগঠনটির।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন ভোর পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ মিলনায়তনে। এতে ভিপি পদে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ৭,৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পান ৪,৩৭৪ ভোট। জিএস পদে জয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব, যিনি ৮,০৩১ ভোট পান।

এজিএস পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, যিনি পেয়েছেন ৭,০১৪ ভোট; শিবিরের প্রার্থী সাজ্জাত হোছন মুন্না পান ৫,০৪৫ ভোট। সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’-এর তামান্না মাহফুজ স্মৃতি জয়ী হয়েছেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ অনুপস্থিত থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে। তবে ভোটের ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় শিবির। ২৭ হাজার ৫১৬ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দেন।

নির্বাচনে অনিয়ম, অমোচনীয় কালি ও বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকে। তবে বড় কোনো সহিংসতা ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়। ভোট শেষে ফল ঘোষণার আগেই ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ১৯৭০ সালে প্রথম চাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের ইব্রাহীম ও আবদুর রব জয়ী হয়েছিলেন, আর সবশেষ ১৯৯০ সালের নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন ও আজিম উদ্দিন আহমেদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ডাকসু ও জাকসুর পর এবার চাকসু নির্বাচনের নেতৃত্বও ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে চলে যাওয়ায় দেশের তিনটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব এখন সংগঠনটির দখলে।

সম্প্রতি

আরও খবর