Wednesday, March 4, 2026
হোমখবরনগর-মহানগরবেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড : গ্রিন কোজির ‘গোড়ায় গলদ’

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড : গ্রিন কোজির ‘গোড়ায় গলদ’

সম্পর্কিত সংবাদ

আগুনে বহু হতাহতের ঘটনার রাজধানীর বেইলি রোডের সাত তলা ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবন তৈরিতেই ‘অনিয়ম’ ছিল বলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জানিয়েছে।

রাজউক বলছে, ভবনটি অফিস ও আবাসিকের জন্য অনুমোদন ছিল। কিন্তু রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য অনুমোদন ছিল না। ভবনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ভবন ব্যবহারের অনুমতি ছাড়াই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ভবন নির্মাণে অনিয়ম হওয়ার কারণে পাঁচবছর আগে ভবন মালিককে নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশের পর অনুমোদিত নকশা ব্যত্যয় করে গড়ে তোলা ভবনটি কিছু অংশ গুঁড়িয়েও দেয়া হয়। তবে পরবর্তিতে এই ভবনের বিষয় কোনো তৎপরতা ছিল কিনা তা জানাতে পারেনি কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এটা দেখভালের দায়িত্ব রাজউকের ভবন পরিদর্শকদের।

‘কিন্তু তারা সেটা করছেন না। অনেক সময় বিশেষ সুবিধা নিয়ে ভবন মালিকদের স্কয়ার ফুটে বাড়তি সুবিধা করে দিতে গোপন সমঝোতা হয়। মূলত এভাবেই বেশি ক্রাইম হচ্ছে।’

রাজউক সূত্র জানায়, ২০১১ সালে একটি বেইজমেন্টসহ আট তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যক ভবন হিসেবে গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়। ওই ভবনের জমির মালিক হামিদা খাতুন। আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন সেখানে ভবনটি তৈরি করে।

গ্রিন কোজি কটেজ ভবনটিতে ৮টি রেস্তোরাঁ, ১টি জুসবার ও একটি চা-কফি বিক্রির দোকান ছিল। ছিল মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম এবং পোশাক বিক্রির দোকানও।

ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ছিল বিরিয়ানির পরিচিত খাবার দোকান ‘কাচ্চি ভাই’ এর শাখা, পোশাকের ব্র্যান্ড ইলিয়েন, নিচের তলায় স্যামসাং এর শোরুমসহ আরও বেশ কিছু দোকান। স্যামসাংয়ের শোরুমের পাশে ছিল একটি কফি শপ। এরকম কফির দোকানসহ ফাস্টফুডের অনেকগুলো দোকান ও রেস্তোরাঁ ছিল ভবনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তবে নিচতলার একটি ছোট রেস্তোরাঁয় গত বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগে। পরে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনটিতে অগ্নিনির্গমন পথ ছিল না।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, ভবনের সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা ধরনের মালামাল রাখা ছিল। ফলে নিচতলায় যখন আগুন লাগল, ওই সিঁড়ি ব্যবহার করে নামতে পারেনি মানুষ। উপরে আটকা পড়ে ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় অধিকাংশের মৃত্যু হয়।

রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটির এক থেকে সাততলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক অনুমোদন নেয়া হয়েছে। তবে তা শুধু অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য। রেস্তোরাঁ, শোরুম বা অন্য কিছু করার জন্য অনুমোদন নেয়া হয়নি।’

ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে সেটি ব্যবহার বা বসবাসের আগে ব্যবহার সনদ বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে হয়। একটি ভবন সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে কিনা, ভবনটি ব্যবহারের জন্য নিরাপদ কিনা, সেটি নিশ্চিত করার জন্যই অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল বলেন, ‘ওই ভবনটি অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেয়নি। এছাড়া তারা কিছু আনঅথোরাইজড কনস্ট্রাকশন করেছিল। এ কারণে আমরা অভিযান চালিয়ে ওই অংশটুকু ভেঙে দিই।’

রাজউকের এই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবন মালিককে ২০১৯ সালে নোটিস দেয়া হয়। একই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ভবনের কিছু অংশ ভেঙে দেয় রাজউক।

সম্প্রতি

আরও খবর