রমজান মাস উপলক্ষ্যে রাজধানীর যান চলাচলসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এ লক্ষ্যে ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে চলমান উন্নয়ন কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছে তারা। এছাড়া রমজান মাসে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহারেও নিরুৎসাহিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
গতকাল সোমবার রমজান উপলক্ষ্যে সকালে ডিএমপির সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃংখলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সমন্বয় সভা করেছে তারা। সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।
সভায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ব্যাংক, বিপনী বিতান, শপিংমল সমূহের নিরাপত্তা, সড়ক, রেল ও নৌ যান চলাচল, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক নিরাপত্তা,আইন শৃংখলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।
রমজানে জনসাধারণের নিরাপত্তায় তারা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে এবং পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে তার জন্য নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রমজান মাস জুড়ে তিন ধাপে থাকবে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি পুলিশ টহল,শপিং মল,স্বর্ণ মার্কেট এবং বাজার সমূহের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ইফতারীর পর থেকে তারাবী নামাজ পর্যন্ত আইন শৃংখলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সংক্রান্তে পিক আওয়ার বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশের সোয়াট ও ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই রাখা,মাদকের স্পট সমূহে টহল এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা।
ছিনতাই,চাঁদাবাজি,অজ্ঞানপার্টি,মলমপার্টির তৎপরতা ঠেকাতে স্পট চিহ্নিত করে তা রোধকল্পে পোশাকে ও সাদা পোশাকে আইন শৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। মার্কেট কেন্দ্রিক এপিবিএন ফোর্স মোতায়েন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।
সোসাল মিডিয়া মনিটরিং ও সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধী সনাক্তকরণ,গুজব প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসনে ইফতারির আগে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। ওই সময় ট্রাফিক ও থানা পুলিশ যৌথ ভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে চেলেঞ্জ মোকাবেলায় সায়েদাবাদ,গাবতলী,মহাখালী,ফুলবাড়িয়া ভিত্তিক বিভিন্ন টার্মিনালের পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সভা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর রাস্তার মোড়ে যেন রিকশা,মোটরসাইকেল ,অটোরিকশা (সিএনজি) যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যানবাহনের গতি ব্যবহত না করে তার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
প্রধান সড়কে হকাররা যেন কোন অবস্থাতেই তাদের দোকান সাজিয়ে না বসে সে দিকে খেয়াল রাখা
টার্মিনাল, মার্কেট,বিপনী বিতানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সৃশংখল করার জন্য ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা এবং প্রয়োজনীয় ওয়াচ টাওয়ার রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় সভা করে মার্কেটের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে নজরদারী বৃদ্ধি করাসহ প্রশিক্ষণ ও তদারকির ব্যবস্থা করা। প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপপনী যন্ত্র রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিড়িঁতে মালামাল রাখা বা দোকান বসানো থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে সংস্কার করা। জরুরি বহির্গমনের রাস্তা ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত নির্দেশক চিহ্ন ব্যবহার করা। অগ্নিনির্বাপক মহড়ায় মালিক ও কর্মচারীতের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা। বৈদ্যুতিক শটসর্কিট থেকে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে রমজানের আগেই বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তার পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেয়া।
আর দোকানে গাদাগাদি করেন মালামাল না রেখে একাধিক গোডাউনে মালামাল রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও দোকান মালিক সমিতির মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও দিনরাত ২৪ ঘন্টা তা মনিটরিং নিশ্চিত করা। আর সিসি টিভির ক্যামরা সচল আছে কিনা তা যাচাই করা।
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের বিরুদ্ধে ডিএমপির তত্বাবধানে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানো হবে। রমজান মাস উপলক্ষ্যে বড় ধরনের লেনদেনের জন্য মানি এস্কর্ট সহায়তা নেয়া। শপিং মল,জুয়েলারী মার্কেট এবং বাজার কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। গতকাল রমজানের সমন্বয় সভায় ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



