বাজারে খেজুরের দাম বৃদ্ধির কারণে গত মঙ্গলবার দুই ধরনের খেজুরের দাম বেঁধে দেয় সরকার। দাম অনুসারে, খুচরা বাজারে অতি সাধারণ মানের খেজুরের কেজি ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং জাইদি খেজুরের দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেঁধে দেয়া দামের প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ও স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সবথেকে কমদামি খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। মাঝারি মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকায়। আর উন্নতমানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকার ওপর।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সদাই করা খেজুর দেখিয়ে ক্রেতা হারুন অর রশিদ সংবাদকে বলেন, ‘এই যে তিনশ’ সাড়ে তিনশ’ টাকার খেজুর সাতশ’ টাকা দিয়া কিনছি।
‘বাচ্ছা-কাচ্চারে নিয়া খাওয়ামু। কিনতে কইলজা বাইর হয়া জায়গা, জান বাইর হয়া যায়গা। এই রকম হইলে ক্যামনে নিবে মানসে। আমি না হয় নিলাম কষ্ট-মষ্ট করে, গরিব মানুষরা কী করবে ?’
গত মঙ্গলবার সরকার দুই ধরনের খেজুরের দাম কমাইছে এ বিষয়টি জানিয়ে জানতে চাইলে বিক্রমপুর ভ্যারাইটির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল সংবাদকে বলেন, ‘কমাইছে। মাল এখনও পাইনি।’ সবচেয়ে কম দামের খেজুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘সবচেয়ে কমদামি খেজুরের দাম ২০০ টাকা। এর নিচে নাই। বাকি যা আছে সবই দামি।’
এ সময় ঐ দোকানে খেজুর কিনতে আসা ক্রেতা কথার মাঝে যোগ দিয়ে বলেন, ‘কিসের কমাইছে। আপনি কি এই দেশের লোক না অন্য দেশ থেকে আসছেন? সরকার কমালে চলে এখানে? সরকার কী ওনাদেরকে মাল দেয়।’
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের ঢাকা মহানগরীর বাজারদরের প্রতিবেদন দেখা যায়, সাধারণ মানের খেজুরের কেজি বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এক বছরের ব্যবধানে রোজার ইফতারের এই পণ্যটির দাম বৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
রাজধানীর ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাত ও আকার অনুযায়ী দেশে কমপক্ষে ৩০ ধরনের খেজুর বিক্রি হয়।



