Thursday, March 5, 2026
হোমখবরনগর-মহানগরম্যাটস শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

ম্যাটস শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সম্পর্কিত সংবাদ

মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এর শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার, ২ মার্চ, জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এ হুঁশিয়ারি দেন।

ম্যাটস শিক্ষার্থীরা জানান, যদি নতুন কর্মসূচির কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে তার পূর্ণ দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তাবে।

এই সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সমন্বয়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম মূল বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ম্যাটস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কিছু চিকিৎসক ‘উসকানি’ দিচ্ছেন, যার ফলে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কার্যক্রমের কারণে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ও ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

মুজাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “এ ধরনের অপপ্রচার দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ডিএমএফদের অধিকার আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান। ওই মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কর্মবিরতি, সভা-সমাবেশ আদালত অবমাননার শামিল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিরোধী। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের দাবি আদালতেই সমাপ্ত হবে, আমরা কারও বিরুদ্ধে নই।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, ম্যাটস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য চলে আসছে, যা তারা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন এবং সংগ্রামের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। ২২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭ দিনের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা পুনরায় রাস্তায় নামেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের নিয়োগ সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তারা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এসময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তার পুরো দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ওপর বর্তাবে।

ম্যাটস শিক্ষার্থীরা তাদের চারটি মূল দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন, সেগুলি হল:

১. শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে পদ সৃজন।

২. কোর্স কারিকুলাম দ্রুত সংশোধন এবং ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদান।

৩. প্রস্তাবিত এলায়েড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড বাতিল করে একটি স্বতন্ত্র মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন।

৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিএমঅ্যান্ডডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান।

শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান যে, তারা আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ের পথে অটল। তারা বলেন, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সবার পক্ষে সহায়ক এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সমন্বয়ক মো. হাসিবুল ইসলাম শান্ত, ঢাকা জেলার সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া, সহ-সমন্বয়ক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি

আরও খবর