মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
হোমখবরনগর-মহানগরস্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধি, দোহার (ঢাকা)

সম্পর্কিত সংবাদ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করতে না পারায় তিথি রায়(২২) নামে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওইদিনই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা অখিল রায় বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলো- নিহতের স্বামী সুশান্ত বাড়ৈ (৩০), শ্বশুর যাবদ বাড়ৈ (৬৫), শাশুড়ি ভালোবাসা বাড়ৈ (৫৫) এবং আগলা ইউনিয়নের টিকরপুর গ্রামের রবিন বিশ্বাসের স্ত্রী রজন্তী বিশ্বাস (২৮)।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটা গ্রামের অখিল রায়ের মেয়ে তিথি রায়ের সঙ্গে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামের যাবদ বাড়ৈর ছেলে সুশান্ত বাড়ৈ (৩০) এর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সিজা বাড়ৈ নামে ১০ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা অখিল রায় এজাহারে উল্লেখ করেন, বিয়ের পর আমার জামাই সুশান্ত দুবাই প্রবাসী ছিল। কিছুদিন আগে সে দেশে ফিরে আসে। এরপর সে পুনরায় বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার(তিথির) পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করতে থাকে।

তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, আমরা আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় সেই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। এরপর থেকেই সুশান্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার মেয়ে তিথির ওপর অমানসিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতনের কারণে তিথি বেশ কয়েকবার আমাদের বাড়ি চলেও গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই আমরা সংসারের কথা চিন্তা করে তাকে বুঝিয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম।

এজাহারে আরো বলা হয়, ঘটনার দিন গত ১৪ নভেম্বর সকালেও বিদেশ যাওয়ার টাকা নিয়ে তিথির সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নতুন করে বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামিরা তিথিকে অকথ্য গালিগালাজ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। এতে তিথি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।

পরে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে অখিল রায় খবর পান, তার মেয়ে তিথি স্বামীর বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তিথিকে উদ্ধার করে দ্রুত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায়(আত্মহত্যার প্ররোচনা) একটি মামলা রুজু করা হয়েছে(মামলা নং- ১৭/২৮৮)। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ(মিটফোর্ড) মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযান চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি

আরও খবর