পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে হামলায় বন্ধ রয়েছে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজ। দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় ভাংচুর করা হয়েছে ঠিকাদার কোম্পানীর অফিস। হামলায় আহত হয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীসহ ৫ জন। এতে অনিয়শ্চতায় পড়েছে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের যথাসময়ে উদ্বোধন।
এই ঘটনায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে দেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বার্ডস লিমিটেড ও চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ানিং কোম্পানী লিমিটেড। সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের উন্নয়ন কাজ করছে ওই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক তালুকদার বলেন, ‘আমরা কোন চাঁদা চাইনি। পায়রা বন্দরের আমাদের জমি গেছে। তাই এখানে আমরা কাজ চেয়েছিলাম। তাই এটা নিয়ে আমাদের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঝামেলা হইছে। কাজ পাইনি দেখে আমরা কাজে বাঁধা দিয়েছি।‘
লিখিত অভিযোগপত্র ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টার দিকে বন্দরের ১ম টার্মিনালের উন্নয়ন কাজের স্থানে গিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক তালুকদারের নেতৃত্বে জিতু, রনি, সজীব মৃধা, বাশার, রাজা, তুহিন তালুকদার, উজ্জ্বল তালকুদার, জুয়েল তালুকদারসহ ৩০ টি মোটরসাইকেলে ৭০ থেকে ৮০ জন বহিরাগত লোক পায়রা বন্দর এলাকায় প্রবেশ করে। দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা ‘প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা’ দাবী করে। প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা না দিলে পায়রা বন্দরে কোন ধরনের কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে ‘হুমকি দেয় ও কাজ বন্ধ’ করে রাখে।
এসময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার সঙ্গীদের হামলায় ওয়াটার বার্ডস লিমিটেডের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, স্টোর কিপার মনির হোসেন, ড্রাইভার দুলাল মৃধাসহ ৫ জন আহত হয়। আহতদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে বন্দরের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখেছে দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ওয়াটার বার্ডস লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ঐ দিনের পর থেকে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা ও চায়নিজ কোম্পানি এই ঘটনার পর পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। কাজও চালু করা সম্ভব হয়নি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব সময় আমাদের পাহারা দেয়। তাই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এই বিষয়ে থানায় এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করিনি। তবে একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।‘
এব্যাপারে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো.নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ওই প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ানিং কোম্পানী লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার লি জোইং এবং দেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটার বার্ডস লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার জাহিদুল ইসলামের আলাদা দুইটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আগামী জুনের মধ্যে কাজ উদ্বোধন করা। তবে কাজ বন্ধ থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কাজ না হলে যথাসময়ে প্রকল্প উদ্বোধন করা যাবে না।‘
এই বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহমেদ বলেন, ‘এই ঘটনা আমি সাংবাদিকদের কাছেই প্রথম শুনেছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউ এখন পর্যন্ত থানায় কোন ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’



