নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নিহতের স্ত্রী বাউল শিল্পীও আছেন বলে জানান পুলিশ। স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমের জেরে’ ওই যুবক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
বুধবার,(০৩ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে মেহেদী ও তার শ্যালক আব্দুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ইয়াসিন আরাফাত। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মো. মামুন নামের আরও একজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার সকালে কাশীপুর ইউনিয়নের মধ্য নরসিংহপুর এলাকায় সড়কের উপর থেকে ৩৫ বছর বয়সি সুমন খলিফার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন-সুমন খলিফার স্ত্রী বাউল শিল্পী সোনিয়া আক্তার (২২), কাশীপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংহপুর এলাকার আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফ (৪২), তার শ্যালক চর কাশীপুরের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রহমান (২৮), সহযোগী উত্তর নরসিংহপুরের প্রয়াত বাদশার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৮), সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির আব্দুল হাই হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) এবং একই এলাকার দিদার বক্সের ছেলে নান্নু মিয়া (৫৫)।
নিহত সুমন বরিশালের আগৈলঝাড়ার আন্দারমানিক গ্রামের মন্টু খলিফার ছেলে। স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ঘটনার দিন রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মন্টু খলিফা।
বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘তদন্তে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের জড়িত হওয়ার প্রমাণ পেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ আসামিদের দেখানো তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, সুমন বেকার ছিলেন। তার স্ত্রী সোনিয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ৩০ নভেম্বর রাতে সুমন ও সোনিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে পঞ্চবটি এলাকায় একটি গানের অনুষ্ঠানে যান। রাত ১১টার দিকে স্ত্রীকে অনুষ্ঠানে রেখে বেরিয়ে যান সুমন। ‘দুই মাস আগে এক গানের অনুষ্ঠানে পরিচয় থেকে সোনিয়ার সঙ্গে মেহেদীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় মেহেদীর কাছ থেকে টাকা ধারও নিতেন সোনিয়া। নিয়মিত মোবাইলে কথা বলতেন তারা। বিষয়টি সুমন জেনে যাওয়ায় পরিবারে কলহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা।
এসআই ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘এটি একটি ক্লু-লেস হত্যা মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হই। ‘পরে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মেহেদীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেদী এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে সোনিয়ার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।’
মেহেদীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে এসআই ইয়াসিন বলেন, ‘ঘটনার রাতে টাকা ধার দেয়ার কথা বলে পঞ্চবটি এলাকা থেকে সুমনকে অটোরিকশায় তুলে নেন মেহেদী। পরে তাকে মধ্য নরসিংহপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে খুন করা হয়।’ দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।



