যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এতদিন ছিল পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই। তবে এবার তা রূপ নিল প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডায়। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় দুই রাষ্ট্রনেতার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে নির্ধারিত চুক্তি সই-ই বাতিল হয়ে যায়।
বৈঠক থেকেই শুরু বাকযুদ্ধ
ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলে গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় ইউক্রেন শত শত কোটি ডলারের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেলেও, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জেলেনস্কিকে সমালোচনা করে আসছেন। তাই এ বৈঠকের দিকে নজর ছিল সবার।
ওভাল অফিসে বৈঠকে বসেই ট্রাম্প জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় তোলেন। তিনি বলেন, “আপনার দেশের মানুষ সাহসী, কিন্তু আপনাকে চুক্তিতে আসতে হবে। নইলে আমরা আর আপনাদের সঙ্গে নেই। আমরা না থাকলে আপনাকে একা লড়তে হবে।”
জেলেনস্কি তখন পাল্টা জবাবে বলেন, “একজন খুনির (পুতিনের) সঙ্গে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়।” ট্রাম্প তখন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়ে তার কৃতজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “আপনাকে আদৌ কৃতজ্ঞ মনে হচ্ছে না। সত্যি বলতে, এটি খুবই দুঃখজনক।”
ভেস্তে গেল সংবাদ সম্মেলন ও চুক্তি
বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসবেন এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয় এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলকে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, “জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ওভাল অফিসকে অসম্মান করেছেন। যেদিন তিনি শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, সেদিন তিনি ফিরে আসতে পারেন।”



