১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এক কৌঁসুলির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেয়া হয়।
গুমের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তা কর্মরত কিনা এমন প্রশ্নে গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (প্রসিকিউটর) গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামিম এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, যা সোমবার (গতকাল) কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ নিয়ে প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেনা সদর দপ্তর আইন প্রয়োগ না করা পর্যন্ত আসামি ১৫ সেনা কর্মকর্তা কর্মরত, প্রসিকিউটর’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ প্রতিবেদনে প্রসিকিউটর তামিমের বক্তব্য ‘ভুলভাবে উদ্ধৃত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে যে আইনটি এখনও প্রয়োগ হয়নি বা সেনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর আইনের প্রয়োগ নির্ভর করছে, যা বাস্তবতা ও আইনের ভাষার পরিপন্থী।’
বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২০(সি), ২৬ ও ৪৭ (৩) ধারা উদ্ধৃত করা হয়। গুমের দুটি মামলার শুনানির পর গত রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামিমকে গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তা কর্মরত কিনা প্রশ্ন করা হয়। এর উত্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেটা আইনে বলা আছে, সেটাই আইনের ব্যাখ্যা। এখন সেনা সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে যে এ আইন কবে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে। যতক্ষণ প্রয়োগ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তো সার্ভিং বলাই যেতে পারে।’
গুম ও নির্যাতনের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে রাখা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনানুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে তিনি রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। তাই এই সেনা কর্মকর্তারা কর্মরত কিনা সে বিষয়ে কৌঁসুলি তামিমকে প্রশ্ন করা হয়।



