রেলওয়ের যাত্রীবাহি কোচ ও ওয়াগন মেরামতের দেশের বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কাঁচামাল সংকট কাটছে না। বর্তমানে যতটুকু কাঁচামাল রয়েছে তার আগামী ৩০ নভেম্বরেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে নতুনভাবে কাঁচামাল সরবরাহ করা না হলে চরমভাবে উৎপাদনে ধ্বস নামার আশংকা দেখা দিয়েছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক শ্রমিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমপক্ষে তিন মাসের কাঁচামাল সবসময় মজুদ রাখার নিয়ম। এ সময়ে ঘটছে তার ব্যতয়। নিয়ম মতে কাজ করতে করতে মালামাল শেষ হওয়ার আগেই তিন মাসের জন্য মজুদ করা হয়। এভাবেই বছরের পর বছর কারখানার কর্মকান্ড চলছে। কিন্তু এ বছর ঘটছে তার পুরোপুরি উল্টো। নতুন করে কাঁচামাল সরবরাহের কোনো আলামত মিলছে না। এজন্য শ্রমিক কর্মচারীরা বর্তমান ডিএস’র (বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক) অদক্ষতাকেই দুষছেন। তাদের কথা রেলয়ে কারখানার প্রধান ব্যক্তি ডিএস। এই কর্মকর্তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগে ঘাটতি থাকার কারণে কাঁচামাল বরাদ্দ আসছে না। ফলে আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে করে আগামী ২০২৬ সালে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য যে বাড়তি কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হয় তা আর সম্ভব হয়ে উঠবে না বলে আশংকা করছে অনেক শ্রমিক কর্মচারী।
এদিকে বদলী আতংকে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ শ্রমিকদের ইনহাউজ ট্রেনিংয়ের নামে বরাদ্দ অর্থ, ওভারটাইমের টাকা ও ডাইট এলাউন্সের (খাদ্য ভাতা) টাকা প্রদানে নয়ছয় করছে। এমনকি শ্রমিকদের নামে বরাদ্দকৃত পোশাকের টাকা নিয়েও চলছে তুঘলকি কান্ড।
এছাড়াও অভিজ্ঞ শ্রমিক কর্মচারীদের পদোন্নতি বিষয়েও এই কর্মকর্তা সৃষ্টি করছেন নানা জটিলতা বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন সব বিষয় নিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বদলী আতংকের কারণে সহসাই কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে সচেতন শ্রমিকরা তাদের দাবী আদায় অনিয়মের বিরুদ্ধে গোপনে গোপনে একাট্টা হচ্ছেন বলে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিরাজমান সমস্যার সমাধান না হলে দাবি আদায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শ্রমিক কর্মচারীরা আন্দোলনের মাঠে নামার অশনি সংকেত মিলছে।
কাঁচামালের সংকট ও শ্রমিকদের পদোন্নতি ও নানান অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খুব শিগগির সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমি কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত নই।



