জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর মামলায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, (১৮ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে নিজের কর্মস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ভার্সিটি সূত্র ও শাহবাগ থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন এ চিকিৎসক কর্মস্থলে গেলে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগকে অর্থায়নের অভিযোগে অন্য চিকিৎসকরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে পুলিশ গিয়ে ডা. টিটুকে থানায় নিয়ে যায় বলে ওসি বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গাড়ি পোড়ানো মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাই। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত শিক্ষক ও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ে করে বিএমইউ প্রশাসন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটুকে।
মামলার এজাহারে গত বছরের ৪ আগস্ট শাহবাগ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা কর্মসূচি পালনকালে তাদের ওপর আওয়ামী লীগসমর্থিত তৎকালীন বিএসএমএমইউ থেকে হামলার অভিযোগ আনা হয়।
সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত স্বাচিপসহ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ’ শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বৈষম্যবিরোধীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
প্রশাসনিক ভবনের ভেতর ও ছাদের ওপর থেকে প্রায় ২৫-৩০ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারী মিলে ‘বৃষ্টির মতো’ ইটপাটকেল ও ভারী বস্তু নিক্ষেপ করতে থাকেন। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে অনেক আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হন, যা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বলে এজাহারে বলা হয়েছে। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাখা হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আগুনে পোড়ানো গাড়িগুলো এখনও ভার্সিটির বটতলায় রয়েচে। ওই গুলোতে আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।



