শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
হোমখবরজাতীয়পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার একসঙ্গে এসব মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

একই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে একটি মামলায় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আরেক মামলায় ৫ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ কী ছিল

অভিযোগে বলা হয়—ঢাকা শহরে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে তিনটি ১০ কাঠা করে প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং মেয়েসহ সংশ্লিষ্টরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়

রায় ঘোষণার সময় আদালত শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ আসামিকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করে। তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, যিনি দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হলেন। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি খুরশীদ আলম

২০ জন অন্যান্য আসামির মধ্যে কেবল রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার ছিলেন। ২৯ অক্টোবর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসমর্পণ করে আদালতকে সম্মান দেখানোর কারণে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে তিন মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক ও আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খান মো. মাইনুল হাসান লিপন। রায়ের পর তিনি বলেন,

“আমরা সর্বোচ্চ সাজা (যাবজ্জীবন) প্রত্যাশা করেছিলাম, তা হয়নি। কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

গ্রেপ্তার আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর রহমান রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

কার কী সাজা

আসামি পরিচয় সাজা

শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী তিন মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছর

সজীব ওয়াজেদ জয় শেখ হাসিনার ছেলে এক মামলায় ৫ বছর

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শেখ হাসিনার মেয়ে এক মামলায় ৫ বছর

শরীফ আহমেদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছর

মো. শহীদ উল্লা খন্দকার সাবেক সচিব তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছর

কাজী ওয়াছি উদ্দিন সাবেক সচিব তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছর

পূরবী গোলদার সিনিয়র সহকারী সচিব তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছর

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন সাবেক একান্ত সচিব দুই মামলায় ৬ বছর করে ১২ বছর

মোহাম্মদ খুরশীদ আলম রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) তিন মামলায় ১ বছর করে ৩ বছর

গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে। এরপর দুদক রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দের অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির ছয়টি মামলা করে।

এই ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি অভিযুক্ত হন।

শেখ হাসিনা সব ছয় মামলারই আসামি। তার পরিবারের তিনটি মামলার বিচার একসঙ্গে চলে। অন্যদিকে শেখ রেহানার পরিবারের তিন মামলার বিচারও আলাদা আদালতে একসঙ্গে চলছে।

গত ৩১ জুলাই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

২৩ নভেম্বর হাসিনা পরিবারের মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

শেখ রেহানার পরিবারের এক মামলার যুক্তিতর্ক শেষে ২৫ নভেম্বর আদালত ১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছে।

সম্প্রতি

আরও খবর