রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরজাতীয়তফসিল ঘোষণা: ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

তফসিল ঘোষণা: ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সম্পর্কিত সংবাদ

আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। বৃহস্পতিবার, (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৮ দিন সময় দেয়া হয়েছে এবং প্রচারের জন্য প্রায় ২০ দিন সময় রয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং তা বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১১ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায়। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, তফসিল ঘোষণার ভাষণে ভোটারদের উদ্দেশে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ভোট আপনার শুধু নাগরিক অধিকারই নয় বরং পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সচেতনভাবে আপনারা পালন করবেন এ আমার বিশ্বাস। যে কোনো ভয়-ভীতি, প্রলোভন, প্রবঞ্চনা এবং সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসংকোচে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের নিরাপদ ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণকল্পে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘ধর্ম, গোত্র, গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করুন। পরিবারের প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও সন্তান সম্ভবা মা সহ সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে আসুন। আমি আশা করি, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নেবে।’

ভোট হবে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে, ব্যালট পেপারে। একজন ভোটার দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। সংসদের ভোটের ব্যালট হবে সাদাকালো; গণভোটেরটি রঙিন।

সংসদের ব্যালটে বরাবরের মতোই প্রার্থীদের নাম আর নির্বাচনী প্রতীক থাকবে। নির্ধারিত চৌকো সিল দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।

গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে- জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে ভোটার সম্মতি দিচ্ছেন কিনা। উত্তর দেয়ার জন্য ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটো ঘর থাকবে। যারা সম্মতি জানাচ্ছেন তারা ‘হ্যাঁ’ লেখা বাক্সে সিল দেবেন এবং যারা এর পক্ষে নন তারা ‘না’ ভোট দেবেন।

ভোট দেয়ার পর সংসদ এবং গণভোটের ব্যালট আলাদা দুটো বাক্সে ফেলতে হবে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় ৮ ঘণ্টা রাখা হলেও এবার একইদিন সংসদ ও গণভোট হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৯ ঘন্টা করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররাও পোস্টাল ব্যলটে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনে গত বছরের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। একই বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার শুরুতে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছিল বিএনপিসহ কিছু দল। গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দু’জন একমত হন।

এরপর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বলে আসছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। ইসিও সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার, জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ দুটি ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন সিইসি।

ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই কেবল দলীয় প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫৬টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকা- নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকা দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। নিবন্ধিত অন্য দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। এর বাইরে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন।

আগামী নির্বাচনই হবে নাসির উদ্দিন কমিশনের অধীনে প্রথম কোনো নির্বাচন। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে হওয়ায়, সময় ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। সময় ব্যবস্থাপনার জন্যই এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, ‘তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

সম্প্রতি

আরও খবর