সেন্টমার্টিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে নোঙ্গর করা একটি জাহাজে অগ্নিকা-ে মারা গেছেন একজন। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের জাহাজটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন। নিহত নূর কামাল (২৫) টেকনাফের বাসিন্দা ও জাহাজটির স্টাফ ছিলেন। তিনি জাহাজে ঘুমন্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে আমরা খবর পেয়ে এখানে আসি। তিনটি ইউনিট কাজ করছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।
প্রাথমিকভাবে জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, ১৯৪ জন পর্যটক শনিবার (গতকাল) এ জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিল। সৌভাগ্যবশত কেউ জাহাজে ওঠেননি, ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। এ কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন আল্লাহপাক। নির্ধারিত যাত্রীদের একটি অংশকে অন্য জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা রোববারের (আজ) জাহাজে যাবেন।
প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটকরা জানান, মাঝসমুদ্রে এই আগুন লাগলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারতো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের একটি অংশকে অন্য জাহাজে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিরা রোববার (আজ) যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘাটে যাওয়ার পর আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। জাহাজের এক কর্মচারীর ঝলসানো দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যিনি একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। আর কেউ আছেন কিনা খোঁজা হচ্ছে, আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে জাহাজটির কক্সবাজার জোনের ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, চলাচলের জন্য যত ধরনের ডকুমেন্টস লাগে সব উপস্থাপনের পরই আমাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ধারণা করছি, অসাবধানতাবশত শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। জাহাজে থাকা ক্রুসহ ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন জীবিত উদ্ধার হলেও রাতের ডিউটির পর ঘুমে থাকা পাহারাদার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কামাল মারা যান।
এদিকে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফিটনেস শতভাগ ঠিক না থাকলে রোববার (আজ) থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাবে না। রাতেই সচল জাহাজগুলোর ফিটনেস পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যে জাহাজগুলো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, কেবল সেগুলোই রোববার (আজ) পর্যটক নিয়ে যাত্রা করতে পারবে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমের নেতৃত্বে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে অনুমতি পেলেও গত ১ ডিসেম্বর থেকেই সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
১২টি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনে এ নৌ-রুটে ৭টি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করছিল। এর মধ্যে আটলান্টিক ক্রুজে আগুন লাগার ঘটনায় একটি জাহাজ বাদে বাকি ছয়টি সেন্টমার্টিন গিয়েছে।



