Friday, March 6, 2026
হোমখবররাজনীতিছাত্রদলের নেতারা জীবন বাজি রেখে মৃত গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধার করবে: প্রত্যাশা মঈন খানের

ছাত্রদলের নেতারা জীবন বাজি রেখে মৃত গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধার করবে: প্রত্যাশা মঈন খানের

সম্পর্কিত সংবাদ

নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামে জনগণ যখন দিশাহারা, সরকারের মন্ত্রীরা তখন এসব নিয়ে তামাশা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পরও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে সরকার। এসব করে বিরোধী দলের আন্দোলন দমানো যাবে না।’

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মঈন খান ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা দেশকে নতুন করে গড়া এবং মৃত গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারের শপথ নেন।

মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ মহান যে আদর্শ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র মৃত। মৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সে জন্য রাজপথে নেমেছি, আমরা রাজপথে থাকব।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ নিজেদের জীবনবাজি রেখে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, মানবাধিকার, নারী অধিকার, শিশু অধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিত করবে।’

নারী দিবসের কথা তুলে ধরে মঈন খান আরও বলেন, ‘যে পোশাক শিল্পের আয় দিয়ে সরকার তথাকথিত উন্নয়নের বড়াই করে, সেই নারীরা আজ সমাজ বঞ্চিত। নারীরাই গার্মেন্টস শিল্পে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে গেছে। সরকার মেগা উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি করছে, যার ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

পুলিশী বাধায় নারী দিবসের শোভাযাত্রা পণ্ড এদিকে শুক্রবার সকালে নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেত হয়ে সমাবেশ করে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর তারা শোভাযাত্রা বের করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। শোভাযাত্রা শেষ করতে না পেরে তারা এসময় স্লোগানের মাধ্যমে পুলিশের বাধার প্রতিবাদ জানায়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদেরকে ঘিরে ফেললে দলীয় কার্যালয়ে চলে যান তারা।

বিএনপি সূত্র জানায়, শোভাযাত্রার আগে মহিলা দলের পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছিল, তারা শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করবে। এ ছাড়া নারী দিবসের এ কর্মসূচিতে ঘটনাস্থলে থাকা নারী পুলিশ সদস্যদেরও পাশে থাকার আহ্বান জানায় তারা। তবে কর্মসূচিতে আসা নেতা-কর্মীরা বলেন, পুলিশ শোভাযাত্রার অনুমতি দিচ্ছে না।

এবিষয়ে পুলিশের এডিসি ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেটা পারমিশন ছিল, উনারা সমাবেশ করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে আমরা বাধা দেইনি। যতটুকু পারমিশন ছিল সেটা আমরা করতে দিয়েছি। আজকে জুমার সময় র‌্যালি করতে দিলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হবে, সেজন্য আমরা সেটা করতে দেইনি।’

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক আজকে একটা নারী দিবস, সেখানে পুলিশ নারীদের একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে দিল না। দেশের নারী সমাজ কেমন আছে এটাই তার প্রমাণ। আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ র‌্যালি পণ্ড করে দেয়ার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এর আগে বিশ্ব নারী দিবসে দেশের নারী সমাজকে অভিনন্দন জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজ দেশের নারীরা অবহেলিত, নির্যাতিত। আজকে তাদের দুরাবস্থার কথা বলতে হয়, ‘বাংলাদেশ আজকে একটা ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে, এমন কোনো দিন নাই, এমন কোনো মাস নাই, এমন কোনো সপ্তাহ নাই, যখন দেশের নারীদের ওপর নির্যাতন-ধর্ষণ চলছে না। তার চেয়ে বড় দুঃখের ও কষ্টের বিষয় হচ্ছে, এই ধর্ষণের কোনো বিচার আমরা দেখতে পাই না। কারণ এই ধষর্ণের সাথে ক্ষমতাসীনদের অনেকে জড়িত।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল চিন্তা, নারীর ক্ষমতায়নে রাষ্ট্র ও সমাজকে বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগ হবে নারীর কথা বলা, পেশা ও কাজের স্বাধীনতা হবে সব ক্ষেত্রে।’

দেশে বর্তমানে দখলের রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করেন আমীর খসরু বলেন, ‘আপনারা হাইকোর্ট দখলের প্রক্রিয়া দেখেছেন। জনগণের ভোট তো আগেই দখল হয়ে গেছে। এখন আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের ভোটও দখল করতে চায় (ক্ষমতাসীনেরা)।’

নারীদের আগামী দিনে ক্ষমতায়ন করতে চাইলে আগে জনগণের ক্ষমতায়ন করতে হবে বলে মনে করেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতায়ন করা না গেলে, ভোটাধিকার ফেরানো না গেলে, কারও ক্ষমতায়নের সুযোগ থাকবে না। নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে না আনা গেলে দেশ যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ নেই। নাগরিক অধিকার ফিরে পেলে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী সব জায়গায় জিয়াউর রহমানের সময় নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাঁর যাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি নারীদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে নারীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নারীদের ঘরে-বাইরে ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। আজ এমন অবস্থায় আছি যে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্যও নারীদের দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়, শিক্ষকের কাছে ধর্ষণের শিকার হয় ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।’ নারী দিবসে নারীদের প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা নারী, আমরাই পারি। এ দেশে কোনো ধর্ষণ যাতে আর না হয়। প্রত্যেক নারী যেন নিরাপদে থাকতে পারেন দেশ ও সমাজে।’

সমাবেশে মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান বলেন, ‘এ দেশে যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়, তাহলে বিরোধী পক্ষ ১০টি আসনও পায় কি না সন্দেহ। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি করেন।’

সম্প্রতি

আরও খবর