কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনসহ একইদিনে অনুষ্ঠিত দুই শতাধিক উপ-নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় ‘দু-চার’টি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ১৮টি অপ্রীতিকর ঘটনায় ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’
কোথাও প্রভাব খাটানো হয়েছে, হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘কুমিল্লায় কেন্দ্রের বাইরে গোলাগুলি হয়েছে, ছুরিকাঘাতও হয়েছে একটি কেন্দ্রে। তবে কেন্দ্রের ভেতরে ভোট প্রভাবিত হয়নি।’
শনিবার (৯ মার্চ) ভোট শেষে বিকেল ৫টার দিকে সিইসি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
ময়মনসিংহ সিটির সব পদে এবং কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন হয়। একইদিনে অনুষ্ঠিত দুই শতাধিক নির্বাচনের অধিকাংশই উপনির্বাচন। দুই সিটিতেই ইভিএমে ভোট দিতে আঙুলের ছাপ না মেলা এবং ধীর গতিতে ভোটগ্রহণের অভিযোগ আসে।
তবে, দুই সিটিতে গড়ে ভোটের হার প্রায় ৫০% হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কুমিল্লায় সিটি ভোট শুরুর পর কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। ভোটে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছিল। তিন প্রার্থী তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং ভোটারদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ তোলেন সকাল থেকেই। এর মধ্যে এক কেন্দ্রের বাইরে গোলাগুলিতে দুজন আহত হন।
ময়মনসিংহে গোলযোগ না থাকলেও ভোটারদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে বেশি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লায় প্রত্যেক প্রার্থীই কমবেশি শক্তি প্রয়োগ করেছে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বলেছিলাম (ঘটনায় জড়িতদের) যাকে পাওয়া যায় তাকেই যেন গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ পাইনি।’
আনিছুর রহমান জানান, মেয়র পদে কুমিল্লায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এ সময় আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানান, বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট চেয়েছিলাম। ভোটকেন্দ্রের বাইরে যে ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা হয়। তুলনা করলে খুই নগণ্য এটা। সার্বিকভাবে আমরা বলতে পারি ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’
পৌরসভা ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান জানান, ‘শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রত্যাশিত সুন্দর, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোনো কিছু বন্ধ হয়নি।’



