দেশকে বাঁচাতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই, তাই আবারও নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেছে বিএনপি। তবে কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করেনি বলেও জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
গতকাল দুপুরে সদ্য মুক্তি পাওয়া যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিমিয় শেষে মঈন খান বলেন, ‘বিএনপি কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করেনি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেছে। সরকার জানে, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। বিগত ৩টি নির্বাচনই ভুয়া ও জালিয়াতির ছিল।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে বিএনপি। খুব শীঘ্রই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকার যদি স্বাধীনতার পক্ষের হয়, তা হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের আস্থা রাখতে হবে। অথচ সরকার ভয় পেয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার বদলে বিএনপির সমালোচনা করছে। গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে।’
এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কবরে পাঠিয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার অসৎ অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান আইন-আদালত, পুলিশ, সিভিল প্রশাসন দুমড়ে মুচড়ে ফেলেছে। যেখানেই নির্বাচন, সেখানেই আওয়ামী ভোট ডাকাত, সেখানেই সন্ত্রাস।’
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠনও আওয়ামী লীগ সরকারের কালো থাবায় বিপর্যস্ত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ যে সব কূটকৌশল অবলম্বন করছে তার সবকিছুই তারা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে প্রয়োগ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশকে ভয়ানক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হবে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এই ভোট জালিয়াতি ও নিজেদের অপকর্মের ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ফলাফল গণনা নাটকের নামে জালিয়াতি করে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা ও যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশের আপন ভাই মেয়র তাপসের প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্রছায়ায় দেশের কোথাও কোনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী নয়, বিগত ২০১৪, ২০১৮ এবং গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতিপূর্বে তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন।’
এ সময় তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরীসহ গ্রেপ্তার বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।



