Thursday, March 5, 2026
হোমখবররাজনীতিসংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রদের কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ কেড়ে নিতে চায়:...

সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রদের কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ কেড়ে নিতে চায়: মেজর হাফিজ

সম্পর্কিত সংবাদ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে যে সাহস দেখিয়েছে, তা অবাক করার মতো কিন্তু দেশের সব সংগ্রাম, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রদের এই কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ কেড়ে নিতে চায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য। সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগ ধুলিস্যাৎ করেছে। তারা একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চায়। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রতিবেশী দেশের পদলেহনে এখন ব্যস্ত সরকার।’

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের সকল কৃতিত্ব একটি রাজনৈতিক দল নিতে চায়। তারা ছাত্রদের কোনো কৃতিত্ব দিতে চায় না। কিন্তু ছাত্রদের জন্যই ভাষা আন্দোলনে অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এসেছে।’

বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অনেক আন্দোলন করেছে। তবে আমরা এখনো আশা রাখি যে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, নিশ্চয়ই এখনো মুক্তিযুদ্ধের সেই আকাক্সক্ষা ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু দেশে গণতন্ত্র নেই। যা দেশ স্বাধীনের ছয় মাস পরেই বুঝে গিয়েছিলাম আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে। যে গণতন্ত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, সেই গণতন্ত্র তারা ধূলিসাৎ করেছে। আজ মানুষের স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই।’

স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা দাবি করে বলেন, ‘২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর পরই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে একবার এবং ২৭ মার্চ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সামনে সৈনিকদেরকে একত্রিত করে জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমান সেদিন বলেছিলেন, আজ থেকে আমরা স্বাধীন, আমার বাংলাদেশকে আমি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করছি এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি আহŸান জানাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ প্রসঙ্গে হাফিজ বলেন, ‘এরপর কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ২৭ মার্চ আবার জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা সবাই শুনেছেন। এটাই স্বাধীনতা ঘোষণার প্রকৃত ইতিহাস।’

হাফিজের দাবি, ‘জিয়াউর রহমান এগিয়ে না এলে মুক্তিযুদ্ধই হত না। পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের প্রস্তুতির কথা জেনেও রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে তখন সাবধান করেননি। তারা কেবল বক্তৃতা দিয়ে গেছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণ শুরুর সময় মানুষের ভরসা হয়ে দাঁড়ান জিয়াউর রহমান।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ২ মার্চ স্বাধীন দেশের পতাকা তোলার পর এটাকে আওয়ামী লীগ ‘পাত্তা দেয়নি’ দাবি করে হাফিজ বলেন, ‘ছাত্রদের ভ‚মিকায় অভিভ‚ত হয়েছি, বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে ছাত্র-সাধারণ যুবকদের যুদ্ধে যাওয়ার উৎসাহ আমি স্বচক্ষে দেখেছি।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ‚মিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জনাব শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের নেতারা তখন বিভোর ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে। এটা দোষের কিছু নায়। তাদেরকে জনগণ ভোট দিয়েছে, হতেই পারে। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর প্রস্তুতি নেওয়া, তাদের অস্ত্র সম্ভার বৃদ্ধি করা, বিরোধীদেরকে বাঙালিদের বিরুদ্ধে লিপ্ত করা এসব দেখে আওয়ামী লীগের সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা এতোই স্বপ্নে বিভোর ছিলেন স্বাধীনতার ডাক তাদেরকে স্পর্শ করেনি।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্ব ও সদস্য পারভেজ রেজা কাননের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহŸায়ক আবদুস সালাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গণি চৌধুরী, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, হারুন আল রশিদ, কামরুল আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সালাম বলেন, ‘আজকে দেশে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানুষ এখন ভোট দিতে যায় না। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শেষ করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আমাদের ছেলেদের গুম করছে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ রাজপথে নেমে এসেছে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। প্রতিদিন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবাদ তো দূরে থাক, একটু মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন না।’ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিজভী এসব অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, ‘অবৈধ সরকার দেশের সব বিরোধী দল, সব গণতন্ত্রকারী মানুষকে কারাগারে ঢুকিয়ে রেখে দেশ শাসন করতে চাচ্ছে। জনগণশূন্য, ভোটারশূন্য, গণতন্ত্রশূন্য একটি নির্দয় ফ্যাসিবাদী শাসন তারা কায়েম করতে চায়।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে সরকারকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, ‘ভারতকে সব দিয়েছেন, কিন্তু ন্যায্য যে অধিকার, তিস্তার পানি-গঙ্গার পানি, সেটাও আপনারা পাননি।’

দেশের রিজার্ভের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘রিজার্ভ এখন ১৭ বিলিয়ন ডলার। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে ১৯ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএমএফকে গোপনে একটি রিপোর্ট করতে হয়, সেখানে বলা হচ্ছে, ১৭ বিলিয়ন ডলার। তিন মাসে যে আমদানি করবেন, সেই আমদানি করার ক্ষমতা বাংলাদেশের এখন আর নেই। বাংলাদেশের মানুষকে খাবারের অভাবে না খেয়ে থাকতে হবে।’

অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘সরকার আজকে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে না। আজকে কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ বিএনপি করবে, কেউ অন্য দল করবে। এভাবেই তো সারা দুনিয়া চলে আসছে। আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। এটা সারা দুনিয়া বলছে। তাহলে আমরা এ দেশে কীভাবে বাস করব।’ গতকাল সকালে রাজধানীর মগবাজারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলামের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মঈন খান। তিনি বলেন, ‘আশা করব সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে। মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। সরকার মুখে যা বলে বাস্তবে তা প্রমাণ করবে।’

সম্প্রতি

আরও খবর