কেন্দ্রীয় কমিটির পদে থাকা বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বহিষ্কারের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি করতে দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রলীগ। রবিবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।
শনিবার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূলধারার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে জঙ্গিবাদী সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিয়ে বুয়েট পশ্চাৎদিকে ধাবিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকৌশল শিক্ষার এ উচ্চ বিদ্যাপীঠে ‘মানবতাবিরোধী নিষিদ্ধ ও অন্ধকার জগতের’ সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার তীর্থস্থানে পরিণত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে জঙ্গি আস্তানায় গোপন মিটিং, শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল মেইলে জঙ্গিবাদের প্রচারণা, ক্যাম্পাসে কিউআর কোডের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালানো, বিশ্ববিদ্যালয় পরিমণ্ডল এ শ্রেণিকক্ষে মহান স্বাধীনতাকে কটাক্ষ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড বুয়েটকে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে পশ্চাৎদিকে ধাবিত করছে।
এতে বলা হয়, রাহিমের আবাসিক হলের বরাদ্দকৃত সিট বাতিল ঘোষণার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-গণতন্ত্রকামী মানুষ ও ছাত্রসমাজ চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ বুয়েট প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একটি অন্যায্য, অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ও সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত শিক্ষাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরে বুয়েটের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যু এদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে, ব্যথিত করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। এদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহু বছর ধরে সন্ত্রাসজনিত কারণে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। এমতাবস্থায়, বুয়েট প্রশাসন, শিক্ষকমণ্ডলি ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আহ্বান জানাচ্ছে, একটি অন্যায়ের প্রতিকার হিসেবে আপনারা ধারাবাহিক অসংখ্য অন্যায় ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত হবেন না।



