সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৮ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন। এর আগে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক রিভিউ আবেদন করেন। এসব আবেদন একসঙ্গে শুনানি হবে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী সংসদে পাস করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। পরে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী।
২০০৪ সালের ৪ আগস্ট বিএনপি সরকারের সময়ে হাই কোর্ট সেই রিট খারিজ করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল থাকে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করেন রিট আবেদনকারীরা।
২০০৬ সালে রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ক্ষমতায় থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ২০১০ সালের ১ মার্চ আপিল বিভাগে ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার শুনানি শুরু হয়। এতে আপিল আবেদনকারী ও রাষ্ট্রপক্ষ ছাড়াও অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শীর্ষস্থানীয় আটজন আইনজীবী মতামত দেন। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন, এমনকি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও একই মত দেন।
২০১১ সালের ১০ মে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। তখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন এ বি এম খায়রুল হক।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ ৫৫টি সংশোধনী যুক্ত করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি এতে অনুমোদন দেন।
এরপর ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। ওই রায়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের কথা বলা হয়।



