রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকা-ের পর এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে একে আকস্মিক কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা বলার অবকাশ নেই। আগে থেকেই ভবনটি অগ্নিকা-ের ঝুঁকিতে ছিল। ফায়ার সার্ভিস একাধিকবার বিষয়টি ভবন মালিককে জানিয়েছিল। সেই সতর্কবার্তা আমলে নেয়া হয়নি। আর এর পরিণতি কী হয়েছে সেটা দেশবাসী দেখেছে।
রাজধানীজুড়ে এমন আরও অনেক ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাজধানীর ৯০ ভাগ ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাই নাজুক। কেবল পুরান ঢাকা বা পুরোনো স্থাপনাই নয়, নতুন অনেক স্থাপনাতেই নেই অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তাহীন এসব ভবনকে কেউ কেউ বলছেন ‘টাইম বম্ব’।
অগ্নিঝুঁকিতে থাকা এসব ভবনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটা একটা প্রশ্ন। সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জাতীয় সংসদে বলেছেন, ২০১৯ সালে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকা-ের পর অননুমোদিত ১ হাজার ৩০০ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছিল কিন্তু সেগুলো ভাঙা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবন চিহ্নিত করার পরও কেন সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি সেটা জানা দরকার। ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতা কার? ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে ভবিষ্যতে এসব ভবনের কোনোটিতে অগ্নিকা- ঘটলে তার দায়দায়িত্ব কে নেবে?
যখনই কোনো অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে তখন এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপায়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাটি কেউ নেয় না। এমনকি অগ্নিকা-ের পর তার জন্য দায়ীদের বিচারও করা হয় না। সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেছেন, এফআর টাওয়ারে অগ্নিকা-ের ঘটনা তদন্ত করে ৬২ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি রিপোর্ট দেয়ার পরও সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। চার্জশিট দেয়ার সময় অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। আজ পর্যন্ত সেই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
বেইলি রোডে যে অগ্নিকা- ঘটেছে তাকে অনেকে অবহেলাজনিত হত্যা বলছেন। এমন ঘটনা রাজধানীতে অতীতেও ঘটেছে। এসব ঘটনার বিচার হয়নি বলেই অবহেলাজনিত হত্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।
আমরা আশা করব, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেইলি রোডের অগ্নিকা-ের ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তদন্ত থেকে শুরু করে বিচারের কোনো স্তরেই যেন প্রভাব খাটানো না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে যেন অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় সেটা কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মনিটর করতে হবে। যেসব ভবন অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেÑ আমরা এমনটাই দেখতে চাই। আশা করব, এক্ষেত্রে কেউ কারও ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবে না। দায় চাপানোর খেলার অবসান ঘটানো দরকার।



