রাজধানীর কোলঘেঁষা বুড়িগঙ্গা নদীটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪১ কিলোমিটার। ভরাট, দখল ও প্রবাহশূন্যতার শিকার হয়ে বিলীন হয়ে গেছে ১৬ কিলোমিটার নদী। নদীটি বর্তমানে প্রবহমান রয়েছে মাত্র ২৫ কিলোমিটার। একাধিক সংগঠনের যৌথ গবেষণা থেকে জানা গেছে এ তথ্য ।
বুড়িগঙ্গা নদীর প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত? এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল দীর্ঘদিনের। নদীটির উৎসমুখ ও দৈর্ঘ্য নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ভিন্ন ভিন্ন দৈর্ঘ্যরে কথা জানিয়েছিল। তাই বুড়িগঙ্গা নদীর প্রকৃত দৈর্ঘ্য চিহ্নিত করার জন্য ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলে উক্ত যৌথ গবেষণা। গবেষণায় জিপিএস ট্র্যাকিং ও সিএস ম্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নির্বিচারে দখল-দূষণ ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা-উদাসীনতার কারণে একটি নদীর কী অবস্থা হতে পারে, এটি তার উদাহরণ। নদী প্রকৃতির একটি অন্যতম বড় অস্তিস্ত¡। এটি কোনো পুকুর বা জলাশয় নয় যে, রাতারাতি দখল হয়ে যাবে। বছরের পর বছর ধরে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। নদীর ১৬ কিলোমিটার দখল হয়ে গেল কিন্তু সেটা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কারও নজরে এলো না। আর কতটুকু দখল হলে ‘কুম্ভকর্ণ কর্তৃপক্ষের’ ঘুম ভাঙবে?
উচ্চ আদালত দেশের সব নদ-নদীর তালিকা, বিভাগওয়ারি দখলদারদের তালিকা ও নদী দখলমুক্ত করতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেÑ সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দিয়েছিল; কিন্তু নদীর সংখ্যা যে আসলে কত তা আজও সুরাহা হয়নি। আর দখলদারের প্রকৃত সংখ্যা কত তাও অজানা। আদালত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের সব নদ-নদীর অভিভাবক হিসেবে অভিহিতও করেছে। পাশাপাশি নদীদূষণ ও দখলমুক্ত করতে ১৭টি নির্দেশনাও দিয়েছে; কিন্তু নদী রক্ষা কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে এ পর্যন্ত নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতে রিট হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তড়িঘড়ি করে উচ্ছেদ অভিযানে নামে। কিছু কিছু স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়। কয়েক দিন নদী রক্ষার নামে লোক দেখানো বর্জ্য অপসারণের কাজও চলে; কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার যা ছিল তা-ই হয়ে যায়।
নদী রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে একটি টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে একদিন দেখা যাবে ভরাট, দখল ও দূষণে বুড়িগঙ্গার অস্তিস্ত¡ই হয়তো হারিয়ে যাবে।



