Wednesday, March 4, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়টিআর প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন

টিআর প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন

সম্পর্কিত সংবাদ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রথম পর্যায় কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংবাদ-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে তিন লাখ টাকা বরাদ্দের টিআর প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকায়। বাকি অর্থ সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিআর প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের আগ-কয়ড়া এলাকায় আছমতের দোকান হতে গফুরের বাড়ি পর্যন্ত আটশ মিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় তিন লাখ টাকা। রাস্তা নির্মাণে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে।

দেশে টিআর প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আগেও পাওয়া গেছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এমন অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। টিআর ছাড়াও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এমনও দেখা গেছে যে, প্রকল্পের কোনো কোনোটির কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা তুলে নেয়া হয়। কোনো কোনো প্রকল্পে কাজ হয় নামমাত্র। আর প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য অভিযোগের আঙুল ওঠে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন হচ্ছে, টিআর প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না কেন।

টিআর, কাবিটা, কাবিখা কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় মানুষের অবস্থা পরিবর্তন ও উন্নয়নের চেষ্টা করছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রান্তিক মানুষ আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। এগুলো হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি। সমস্যা হচ্ছে, এসব প্রকল্প একটি গোষ্ঠীর অনিয়ম ও দুর্নীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে কাবিখা, কাবিটা, টিআরের মতো অনেক কর্মসূচিই নিয়েছে সরকার। কিন্তু দুর্নীতিবাজ একটি গোষ্ঠীর কারণে সরকারের ভালো উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আর দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে নেয়া কর্মসূচিতে লুটপাট হোক সেটা আমরা চাই না। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লাপাড়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়াই বাঞ্ছনীয়।

কাবিখা, কাবিটা, টিআর প্রকল্প দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন সেটাই আমরা দেখতে চাই। প্রকল্পের কাজ নিয়মিত মনিটর করতে হবে। এটা করা হলে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই।

সম্প্রতি

আরও খবর