Wednesday, March 4, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়টেকনাফের কায়ুকখালী খাল দখলমুক্ত করতে সমস্যা কোথায়

টেকনাফের কায়ুকখালী খাল দখলমুক্ত করতে সমস্যা কোথায়

সম্পর্কিত সংবাদ

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সরকারি খতিয়ানভুক্ত কায়ুকখালী খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এজন অভিযোগের আঙুল উঠেছে পৌরসভার কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। খাল দখলের কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পৌরসভার নাগরিকরা।

টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কায়ুকখালী খালে বাঁশের বেড়া, কংক্রিট ও মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত মার্কেটের পাশের প্যারাবন নিশ্চিহ্ন করে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। ফলে ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

শুধু টেকনাফে নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল-বিল, জলাশয়, নদ-নদী ও সরকারি অন্যান্য জমি দখলের খবর গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়। আর এর সঙ্গে প্রায়ই জড়িত থাকেন ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা। টেকনাফ পৌরসভায় সরকারি একটি খাল দখল করে ব্যক্তিগত মার্কেট নির্মাণ করেছেন কাউন্সিলর। ভূমি অফিস খাল ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অনুমতিও দেয়নি।

পৌর মেয়র বলছেন, আইন অমান্য করে খাল দখল করার এখতিয়ার কারো নেই। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি খালের উপর নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ কারার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এলজিইডির প্রকল্প অনুমোদন হাতে এলে খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।

ইউএনও আশ্বাস দিয়েছেন যে খাল ভরাট করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল খনন করা হবে। কত দিন নাগাদ খাল খননের অনুমোদন মিলবে, তারপর তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালাবেন। প্রশ্ন হচ্ছে, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ উচ্ছেদ করতে এতদিন কেন অপেক্ষা করতে হবে। দেশে আইন আছে। সরকারি খাল দখল করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে জেল-জরিমানাও হতে পারে। আইন থাকতেও সেটা ব্যবহারে প্রশাসনের বাধা কোথায় সেটা আমরা জানতে চাইব।

কায়ুকখালী খালটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটা আমরা আশা করব। যিনি সরকারি খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন, তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকার একদিকে খাল খননে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অন্যদিকে কেউ আবার রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছে, এটা হতে পারে না। শুধু টেকনাফের কায়ুকখালী খালই নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও প্রভাবশালীরা খাল দখল করে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে হবে। দখলমুক্ত হওয়া খাল যাতে পুনরায় কেউ দখল না করতে পারে সেজন্য নজরদারি চালাতে হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর