নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে মৎস্যজীবীরা মাছ শিকার করছেন। উপজেলার সদর, আধাইপুর ও মথুরাপুর ইউনিয়নে মৎস্যজীবীরা রাতে মাছ ধরছেন। জালে শুধু ছোট-বড় মাছ ধরা পড়ছে তাই নয়Ñ মাছের রেণু, পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজপ্রাণীও ধরা পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই অন্যান্য জলজপ্রাণীরও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট ইউএনও বলেছেন, বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেখার কথা। আর মৎস্য কর্মকর্তার ভাষ্যÑ তিনি প্রশিক্ষণে যাবেন। নতুন যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনিই বিষয়টা দেখবেন।
নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরা বন্ধ করার প্রশ্নে এক কর্তৃপক্ষ আরেক কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের অনেক ক্ষেত্রেই এমন প্রবণতা দেখা যায়। এক কর্তৃপক্ষ বলে- এটা আমার দায়িত্ব নয়, অমুকের দায়িত্ব। আবার অমুক বলেন তমুক দেখবেন। বদলগাছিতে যেন দায় চাপানোর খেলারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সেখানে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে কিন্তু সেটা বন্ধে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একজন আরেকজনের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে; কিন্তু পরিবেশ-প্রকৃতির যা ক্ষতি হওয়ার সেটা তো হচ্ছেই। এরকম দায় চাপানোর অপসংস্কৃতির অবসান হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
জেলেরা সারা বছরই যমুনা নদীতে নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করে। চায়না ও কারেন্ট জালে একবার মাছ আটকে গেলে বের হওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না। এটা মিহি সুতো দিয়ে তৈরি। এ জালে মাছ শিকারের ফলে মাছ, মাছের পোনা, মাছের ডিমও ধরে পড়ে। পোনা ও ডিম নষ্ট হওয়ার কারণে আগের মতো আর মাছের দেখা মেলে না খালে-বিলে। এ কারণে জলজ জীববৈচিত্র্যের বড়রকমের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কও করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইন অনুযায়ী চায়না ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মৎস্য শিকার করা একটি অপরাধ। কেউ এ অপরাধ করলে তার জেল-জরিমানা হতে পারে। দেশে আইন আছে কিন্তু সেই আইন প্রয়োগ করতে দেখা যায় না খুব একটা।
শুধু কাগজে-কলমে আইন থাকলেই হবে না, এর কঠোর বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা কারেন্ট জাল উৎপাদন করেন ও আমদানি করেন তাদের খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বদলগাছীসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় খালে-বিলে অবাধে এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবেÑ এটাই আমরা দেখতে চাই।



