Wednesday, March 4, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়ভালুকার বন রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

ভালুকার বন রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

সম্পর্কিত সংবাদ

বন একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে প্রকৃতিতে জীববৈচিত্র্যের টিকে থাকার আধার হিসেবেও কাজ করছে। কিন্তু দখল, বৃক্ষনিধন, পাহাড় কাটার কারণে দিন দিন বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ও জীববৈচিত্র্য তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে।

এমন একটি চিত্র দেখা গেছে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি বন এলাকায়। সেখানে ‘১১ গড়’ নামে বনে একটি প্রভাবশালী চক্র বনের হাজার হাজার শাল ও গজারি গাছ কেটে কাঠ বিক্রি করছে। পাশাপাশি বনের মাটি কেটেও বিক্রি করছে তারা। বন নিশ্চিহ্ন হওয়ার দারপ্রান্তে কিন্তু স্থানীয় বন বিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

হবিরবাড়ী বাড়ি ‘১১ গড়’ বনে মেছোবাঘ, বুনো শুয়োর, বাঘাডরা, বনবিড়াল, বন রুই, হনুমান, বানর, শিয়াল, সজারু, খরগোশ ও বন মোরগসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বাস। বনের গাছ ও মাটি কাটার কারণে এসব প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে, ভুগছে খাদ্য সংকটে।

জাতিসংঘ জানাচ্ছে, একটি রাষ্ট্রের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হবে; কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে ১৫ শতাংশেরও নিচে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন অধিদপ্তর এক সমীক্ষায় জানিয়েছে, দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর। কিন্তু দেশের ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে। আর অবৈধ দখলদারের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।

শুধু ভালুকার ‘১১ গড়’ বন নয়, দেশের অনেক অঞ্চলে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বন দখল করে নিয়েছে। দখলের সঙ্গে জড়িত থাকেন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বন দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে বসে থাকবেÑ এটা মেনে নেয়া যায় না। দেশে আইনে আছে। কেউ বনের জায়গা দখল করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। তাহলে বনবিভাগ কেন আইন প্রয়োগ করছে না সেটা একটা প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের পৃথিবীতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা বলতে চাই, ভালুকার ‘১১ গড়’ নামের গহীন বনসহ দেশের আরও যেসব অঞ্চলের বন দখলে হয়েছে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিতে হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর