Wednesday, March 4, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়বাড়ছে মশা, কর্তৃপক্ষ কী করছে

বাড়ছে মশা, কর্তৃপক্ষ কী করছে

সম্পর্কিত সংবাদ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কিউলেক্স মশা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত বছরের অক্টোবর থেকেই মশা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে গত জানুয়ারির তুলনায় চলতি মাসে মশার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ শতাংশ। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং দুটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এক গবেষণা থেকে জানা গেছে এই তথ্য। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

নর্দমা, ড্রেন, ডোবা ইত্যাদির পচা পানি কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল। এই মশা সাধারণত ডিম পাড়ে বছরের শুরুর দিকে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় এ সময় জলাশয়গুলোতে পানিপ্রবাহ থাকে না। ফলে মশার জন্মানোর হার বেড়ে যায়। এ সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে অর্গানিক বস্তুর পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে মশার ঘনত্ব বাড়ে দ্রুত।

মশা নিয়ে যে জরিপ করা হচ্ছে সেটা একটা ভালো দিক। কারণ মশা নাগরিক জীবনের অন্যতম এক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ গত বছর অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে কমবেশি ১ হাজার ৭শ মানুষ মারা গেছে। কিউলেক্স মশা নাগরিক জীবনে আরেক দুর্যোগ। কাজেই জরিপ করা হলে মশার বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা মেলে।

মশা নিয়ে জরিপ চলাকালে গবেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বছরের এই সময়ে মশার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। প্রশ্ন হচ্ছে, মশার বংশবৃদ্ধির এই প্রবণতা যখন আগেভাগেই বোঝা গিয়েছিল তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে। মশা নিয়ে কোনো জরিপ বা গবেষণা তখনই কোনো অর্থ বহন করবে যখন গবেষণা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনকে অনেক উদ্যোগই নিতে দেখা যায়। তবে এগুলো কতটা কার্যকর সেই প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে ড্রোন দিয়ে মশা খোঁজার অভিযানও চালানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মশা বাড়ছে, মশাবাহিত রোগে নাগরিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কিউলেক্স মশাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এই মশার কামড়ে অনেক সময় ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ হয়ে থাকে। এই রোগে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

আমরা বলতে চাই, মশার বিস্তাররোধে নগর কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ডোবা ও নর্দমাসহ বিভিন্ন জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিষ্কার করা জলাশয়ে নিয়মিত মশার মারার ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। তবে মশার ওষুধ যেন কার্যকর হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে অকার্যকর মাশার ওষুধ ছিটানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

সম্প্রতি

আরও খবর