চট্টগ্রামের মীরসরাই ছিল একসময়ের সবুজ পাহাড় আর গভীর বনের অভয়ারণ্য। সেখানে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল, বহু বিরল প্রজাতির প্রাণী আর নানা ধরনের গাছগাছালিতে ভরপুর ছিল প্রকৃতি। কিন্তু সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পাহাড় কাটা, নির্বিচারে গাছ উজাড় এবং রাতের অন্ধকারে কাঠ পাচারের মতো কর্মকাণ্ডে অঞ্চলটি এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে, শীত কমে যাচ্ছে, ঋতুর স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে পড়ছে। এমন সময়ে বনভূমি রক্ষা হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। অথচ মীরসরাইয়ের বাকি যে অল্প কিছু বন টিকে আছে, সেগুলোও উজাড় হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। খাদ্য সংকটে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।
বন বিভাগের রেঞ্জ অফিস যেখানে হাতের কাছে, সেখান থেকেই মাত্র এক কিলোমিটার দূরে প্রকাশ্যে গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি হচ্ছে, সামাজিক বনায়নের গাছ রাতের অন্ধকারে কেটে পাচার করা হচ্ছে। নারায়নহাট সড়ক দিয়ে কাঠ ও বাঁশ পাচারের ট্রাক নিয়মিতই চলে যাচ্ছে মাশোহারার বিনিময়ে।
বন রক্ষায় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ আছে। আইনের প্রয়োগ নেই, নজরদারি নেই, আর সুযোগ পেয়ে দুষ্ট চক্ররা পাহাড়-জঙ্গল সাবাড় করে দিচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে মীরসরাইয়ের বনের শেষ চিহ্নটুকুও হারিয়ে যাবে। প্রকৃতির ক্ষতি রোধ না করলে জলবায়ু সংকট আরও বাড়বে, বন্যপ্রাণী বিলীন হবে, পাহাড় ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, আর স্থানীয় জনগোষ্ঠীও দীর্ঘমেয়াদে বিপদের মুখে পড়বে।
অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। সামাজিক বনায়ন রক্ষায় বিশেষ নজর দিতে হবে।



