চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন র্যাব কর্মকর্তা মারা গেছেন।
জঙ্গল সলিমপুর ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হলেও চট্টগ্রাম নগরের খুব কাছেই অবস্থিত। চার দশকের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় পাহাড় ও খাসজমি দখল করে সেখানে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি। একই সঙ্গে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্র। একটি গোষ্ঠী এলাকাটিকে কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
র?্যাবের অভিযানে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাতে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধের রূপ প্রকাশ পেয়েছে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা, গাড়ি ভাঙচুর, প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় মনে হয় যে, সেখানে অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিতভাবে কাজ করছে। জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের অভিযানের আগে পর্যাপ্ত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল কিনা, অভিযানের জন্য সমন্বিত প্রস্তুতি ছিল কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে।
উক্ত অঞ্চলের বাস্তবতা জটিল। সেখানে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের। অপরাধী চক্র তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অভিযান চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। বলপ্রয়োগে অভিযান চালালে সাধারণ মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আবার আইনি পদক্ষেপ নেয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আরও শক্তিশালী করে তোলে।
জঙ্গল সলিমপুরের মূল সংকট শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়। ভূমি দখল, প্লট-বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও প্রশাসনিক গাফিলতির সমন্বিত প্রভাবে সেখানকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে সেখানে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একক বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট না-ও হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত রাষ্ট্রীয় কৌশল।
সরকার সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা বলতে চাই, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিভিন্ন বাহিনীর কার্যকর সমন্বয় করতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই। অভিযানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।



