Wednesday, March 4, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়অবহেলায় সংকটে নদী

অবহেলায় সংকটে নদী

সম্পর্কিত সংবাদ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীগুলোর বর্তমান চিত্র উদ্বেগজনক। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার কুমার নদ ও বান্দরবানের আলীকদমের মাতামুহুরী নদ-এর সংকটের মূল কারণ প্রায় একই। অব্যবস্থাপনা, দখল, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নির্বিচার ব্যবহারের ফলে নদীগুলো তাদের স্বাভাবিক চরিত্র হারাচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কুমার নদ একসময় আলমডাঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহ ছিল। আজ সেটা সেচ খালে রূপান্তরিত হয়েছে। দিনে দিনে নদীটি উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর দুই তীরে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য ও প্লাস্টিক। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চোখে পড়ছে না। এর ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে।

মাতামুহুরী নদ সংকটে পড়েছে ভিন্নভাবে। নির্বিচারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও অবাধ পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নাব্য কমে গিয়ে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি। নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানীয় জল ও সেচের সংকট এই অঞ্চলে দৈনন্দিন জীবনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সমাধানে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। কখনো কখনো উচ্ছেদ অভিযান হলেও তা টেকসই হয়নি। খনন, বন সংরক্ষণ ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নজরদারি নেই। নানা সময় পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

নদী কেবল পানিপ্রবাহের উৎস নয়; পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে নদ-নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের নদ-নদী রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। কার্যকর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণও জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত খনন করতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। তবে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে নদ-নদী রক্ষা করা কঠিন। নদ-নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুমার বা মাতামুহুরীর মতো আরও অনেক নদী ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। যার দায় শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষকেই বহন করতে হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর