শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা বড় ধরনের পরিকল্পনাগত দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করে। নির্ধারিত জমির অর্ধেকের একটু বেশি অংশ অধিগ্রহণ করতেই প্রায় পুরো বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সড়ক নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনে।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুমোদন পায় ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে। লক্ষ্য ছিল ৩৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশ এখনও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ভূমি অধিগ্রহণে। প্রাথমিক প্রাক্কলনে প্রায় ৯৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৪৩২ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরা হলেও বাস্তবে সেই অর্থে অর্ধেক জমিও পুরোপুরি অধিগ্রহণ করা যায়নি। ফলে নতুন করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে, যা বর্তমান প্রকল্প ব্যয়ে নেই। এর ফলে শুধু জমি অধিগ্রহণ নয়, সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ থাকা অর্থও অব্যবহৃত অবস্থায় আটকে গেছে।
এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্ষতিপূরণ না পেয়ে যেমন ঘরবাড়ি সংস্কার করতে পারছেন না, তেমনই ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহনে দেরি হচ্ছে, বাড়ছে খরচ, ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্য। এই অবস্থা থেকে স্থানীয়দের উদ্ধার করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।



