শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬
হোমমতামতচিঠিপত্রসাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

আজকাল ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম-সবকিছুই আমাদের হাতে। তবে এই ডিজিটাল সুবিধার পাশাপাশি লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য জগত, যেখানে সাইবার বুলিং এবং নানা ধরনের ভার্চুয়াল অপরাধ ঘটছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়–য়া তরুণেরা এই বিপদের মুখোমুখি।

সাইবার বুলিং হলো ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া বা মোবাইলের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি, অপমান বা ক্ষতি করা। এটি হতে পারে বাজে বার্তা পাঠানো, মিথ্যা গুজব ছড়ানো, ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করা বা হুমকি দেওয়া। সাধারণ বুলিং থেকে ভয়ংকর কারণ এখানে শারীরিক আঘাতের দরকার নেই; শুধু স্ক্রিনের আড়াল থেকেও কারো জীবন দুর্বিষহ করা সম্ভব। এছাড়া হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ফিশিংও ভার্চুয়াল অপরাধের বড় উদাহরণ।

এই ধরনের হয়রানি শুধু মোবাইলেই থেমে থাকে না; এর প্রভাব মানসিক এবং সামাজিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী। ভুক্তভোগীরা হতাশ, ভয়, আত্মবিশ্বাসহীনতা, পড়াশোনায় মন না বসা এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব অনুভব করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, তারা আত্মহত্যার পথও ভাবতে পারে।

এই বিপদের প্রধান কারণ হলো নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের অভাব, পরিচয় লুকানো সহজ হওয়া, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং সমাজের মনোভাব অনলাইনে যা ঘটে সেটা ‘বাস্তব নয়’এমন ভুল ধারণা।

সাইবার ঝুঁকি কমাতে সতর্কতা অপরিহার্য। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অজানা কারো লিংকে ক্লিক না করা, এবং অনলাইন অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা জরুরি। এছাড়া যেকোনো হয়রানির শিকার হলে বাবা-মা, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত কারো সঙ্গে তা শেয়ার করতে হবে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, থানার অভিযোগ বা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ একটি অদৃশ্য শত্রু, কিন্তু সচেতনতা, সতর্কতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এটি মোকাবেলা সম্ভব। ইন্টারনেট সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে এটি জ্ঞান, বন্ধুত্ব এবং সৃজনশীলতার মাধ্যম হতে পারে, অপরাধের হাতিয়ার নয়।

তামান্না ইসলাম

শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সম্প্রতি

আরও খবর