একজন শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম ও প্রধান ভিত্তি বিদ্যালয়। কিন্তু যখন কোনো বিদ্যালয় শিক্ষার্থীবান্ধব না হয়ে স্বার্থান্বেষী আচরণ করে, তখন সেখানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বদলে জন্ম নেয় ঘৃণা ও হতাশা। চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুল তার নামের সঙ্গে থাকা ‘আদর্শ’-এর প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছে-এমন অভিযোগ করছে বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে চায় না, তাদের মানসিক নির্যাতন ও অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়। বছরে চারবার শ্রেণি অভীক্ষা ও দুইবার টার্ম পরীক্ষা নেওয়া হয়, যা সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে ফি আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা যাতে বাইরের কোনো শিক্ষকের কাছে পড়তে না পারে, সে জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে পরীক্ষার সময়সূচির সমন্বয় করে না। ফলে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা মাত্র তিন মাস সময় পায়। কিছু শিক্ষক পরীক্ষার প্রশ্ন আগেভাগে প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য চরম অশনিসংকেত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, সে এই বিদ্যালয়ে আর পড়তে চায় না, কিন্তু নিবন্ধনের কারণে বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। এক অভিভাবক জানান, সন্তানের বিদ্যালয় পরিবর্তনের চেষ্টা করেও জটিলতার কারণে সফল হতে পারছেন না। প্রশ্ন হলো-এই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কি আদৌ কোনো আশার আলো দেখবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
সাগর আহমেদ
চট্টগ্রাম



