১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ‘সংবাদ’-এর প্রথম পাতায় চোখ আটকে গেল। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘ঢাকায় বায়ুদূষণ অস্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক; স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ’। ইদানীং ঢাকার বাতাস ভয়ংকরভাবে দূষিত হচ্ছে। ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে আইকিউওএয়ারের দেয়া সতর্কতামূলক বাক্যে আছেÑ বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, খোলা স্থানে ব্যায়াম না করা এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখা। কারণ গত রোববার সকাল ১০টায় ঢাকার গড় বায়ুর মান ছিল ৫৪২।
এমন অবস্থাকে অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছে, ‘অস্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক’। সেদিন বিশ্বের ১২৪ নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল প্রথম। এই হিসাবগুলো তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএয়ার’।
উল্লেখ্য, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পি এম ২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি রয়েছে। এটি বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান। ঢাকার বাতাসে এই উপাদানের উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান মাত্রার চেয়ে ৬৯ গুণ বেশি। অনলাইনে পাওয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি দূষণের মাত্রা পাওয়া যায় বড় নির্মাণ প্রকল্পের এলাকাগুলো এবং যানজটপ্রবণ সড়কগুলোর কাছে এবং এরপরেই রয়েছে ইটভাটার এলাকাগুলো।
বায়ুদূষণে বিদ্যমান অতি ক্ষুদ্র কণা এতোটাই ক্ষুদ্র যে, তা খালি চোখে দেখা যায় না। তাই অতি সহজেই এটি আমাদের চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে সরাসরি আমাদের রক্তের সাথে মিশে যেতে পারে। এতে ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, লিভার আক্রান্ত হয়ে থাকে। বায়ুদূষণ যেকোন বয়সি মানুষের জন্য ক্ষতিকর। গর্ভবতী নারী, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রবীণদের জন্য এই বায়ুদূষণ মারাত্মক ক্ষতি করে।
বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। সুস্থভাবে বাঁচতে মানুষের জন্য এখন প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ অক্সিজেনের। এই অক্সিজেনের জোগান দিতে পারে গাছপালা। অনেকে আছেন যারা নির্বিচারে গাছ কাটেন কিন্তু সেই পরিমাণে গাছ লাগান না; এটি অনুচিত। একটি গাছ কাটলে সেই স্থানে দুইটি গাছ লাগাতে হয়; কিন্তু এই নিয়মটি অনেকেই মানেন না। নিজের আঙিনার খালি জায়গায় গাছ লাগান। ফ্ল্যাট-বাড়িতে থাকলে নিজের বারান্দায় গাছ লাগান; ছাদ বাগান করুন।
ধুলোবালি থেকে দূরে থাকতে মাস্ক ব্যবহার করুন। নিজের বাড়িঘর এবং আশপাশের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝে পানি ছিটাতে হবে, যাতে করে ধুলোবালি না ওড়ে। কলকারখানা ও ইটভাটা শহর থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। সাথে সাথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যদি ধোঁয়া কমানো সম্ভব হয় তবে সেই দিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে।
ফসলের খড়, গাছের পাতা, বর্জ্য-দ্রব্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। এই ধোঁয়াও বায়ুদূষণের একটি কারণ। রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। এর কালো ধোঁয়া ব্যাপক পরিমাণে বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অত্যাধিক পরিমাণে থাকে। গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে রাস্তায় দৈনিক বের হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে।
বায়ুদূষণের কারণে মানুষ এবং প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে পারি শুধু। কারণ একজন কিংবা দুইজন নয়; সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে।
[লেখক : প্রাবন্ধিক]



