রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমমতামতপাঠকের চিঠিজিপিএ ৫: পরিশ্রমের প্রতিবিম্ব, তবে ভবিষ্যৎ গড়ার মানদণ্ড নয়

জিপিএ ৫: পরিশ্রমের প্রতিবিম্ব, তবে ভবিষ্যৎ গড়ার মানদণ্ড নয়

সম্পর্কিত সংবাদ

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের অনেকেই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এই পরিসংখ্যান একটাই কথা বলে-আমরা সংখ্যার পেছনে ছুটেছি, জ্ঞানের নয়।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সময় শেখার চেয়ে মুখস্থ করার নীরব প্রতিযোগিতা চলে। শিক্ষার্থী জানে না কেন এই সূত্র, কীভাবে এই তত্ত্ব জন্ম নিয়েছে-তবুও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য মুখস্থ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এর প্রতিফলন হিসেবে ফলাফলও আসে চমকপ্রদ: জিপিএ ৫।কিন্তু যখন বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ আসে-সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যার সমাধান, সৃজনশীল চিন্তায়-তখন সেই জিপিএ ৫ তার দীপ্তি হারায়।

বিখ্যাত মনীষী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, অর্থাৎ, “শিক্ষার লক্ষ্য হলো মনকে চিন্তা করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া, আনুগত্য করার জন্য নয়” এবং “শিক্ষা হলো যা স্কুলের পরে মনের মধ্যে থেকে যায়”। এছাড়াও তিনি বলেছেন, “কল্পনা জ্ঞানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ” কারণ জ্ঞান সীমিত হলেও কল্পনা বিশ্বকে আলিঙ্গন করতে পারে এবং বিবর্তনকে জন্ম দেয়। এ কথা মানতেই হবে যে জিপিএ ৫ পাওয়া সহজ নয়। এটি পরিশ্রমের প্রতিফলন, শৃঙ্খলার প্রতীক। কিন্তু এটিকে জীবনের শেষ সীমা ভেবে নেওয়াই ভুল। কারণ জীবন কোনো গাণিতিক সমীকরণ নয়-এটি অনুভূতির, অভিজ্ঞতার, এবং সিদ্ধান্তের সমষ্টি। জিপিএ ৫ পেলে অভিনন্দন প্রাপ্য-এটি নিশ্চয়ই অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। কিন্তু যদি কেউ তা না পায়, তবে সে ব্যর্থ নয়। ভবিষ্যৎ গড়ার মাপকাঠি কখনোই কেবল একটি গ্রেড হতে পারে না।সমাজের উচিত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব প্রতিভা ও গুণ অনুযায়ী মূল্যায়ন করা। কেউ বিজ্ঞানী হবে, কেউ লেখক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ শিক্ষক-সবাই মিলে গড়ে তোলে একটি দেশ, একটি সভ্যতা।

জুবায়েদ মোস্তফা

সম্প্রতি

আরও খবর