বিশ্বে প্রতিবছর উৎপাদিত মোট খাদ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অপচয়ের কারণে নষ্ট হয়। খাদ্য অপচয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন, যেখানে বছরে প্রায় ৯ কোটি ১৬ লাখ টন খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়। এই বিপুল অপচয় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, মানবিক সংকটও তৈরি করছে।
আমাদের দেশেও খাদ্য অপচয় এক গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গৃহস্থালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়েবাড়ি বা বড় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই খাবারে হাত দিলেও শেষ পর্যন্ত তা খাওয়া হয় না; ফলে অবশিষ্ট খাবার ফেলে দিতে হয়। অথচ সেই একই মানুষ ঘরে বসে এক টুকরো খাবারও অপচয় করেন না।
রান্না করা খাবারই নয়, কৃষিপণ্যও নষ্ট হয় জমিতে বা গুদামে। ঝাড়াই-বাছাই, পরিবহন ও সংরক্ষণের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ শস্য পচে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় হোটেল ও বাড়ির পচা খাবার যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা, যা পরিবেশদূষণ ও দৃশ্যদূষণের মতো নতুন সমস্যার জন্ম দেয়।
একদিকে কিছু মানুষ খাবার নষ্ট করছে, অন্যদিকে বহু মানুষ না খেয়ে দিন পার করছেÑএই বৈষম্য মানবতার পরিপন্থী। তাই খাদ্য অপচয় রোধে আমাদের প্রত্যেকেরই সচেতন হতে হবে। বাড়িতে বা অনুষ্ঠানে যতটা প্রয়োজন, ততটাই রান্না ও পরিবেশন করা উচিত। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকেও উদ্বৃত্ত খাবার সংরক্ষণ বা বিতরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্য শুধু পুষ্টির উৎস নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্বের প্রতীকও বটে। তাই অন্নের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে অপচয় বন্ধ করা আজ সময়ের দাবি। খাদ্যের অপচয় বন্ধ হোকÑএটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
লিয়াকত হোসেন খোকন



