প্রযুক্তির যুগে আমরা যত স্মার্ট হচ্ছি, সম্পর্কগুলো যেন ততই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। আর এই যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন আমাদের বয়স্ক বাবা-মায়েরা। আগে তারা ছিলেন পরিবারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কেন্দ্র। একসাথে খাওয়া, উৎসব অনুষ্ঠানে আনন্দ উদযাপন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া- তারাই ছিলেন সবকিছুর মধ্যমণি,সংসারের প্রাণ।
কিন্তু নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন, আর প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি আমাদের প্রবীণ বাবা-মায়েদের একাকীত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা এখন নিঃসঙ্গ, অবহেলিত ও আমাদের অনেকের চোখে অপ্রয়োজনীয়। একটা সময় ছিলো যখন সন্ধ্যার পর উঠানে বসে চলত গল্পের আসর। তাদের মুখে শোনা যেত জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রামের গল্প, ভালোবাসার পাঠ। ছোট-বড় সবাই সেই গল্পে মুগ্ধ হয়ে যেত। আজ সেই উঠান ফাঁকা, সেই গল্প থেমে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তাদেরকে একা করে অসহায়ের মতো বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিই। আমাদের হৃদয়ে টনক নড়ে না। এই অবহেলা তাদের মনটা ভেঙে দেয়, তারা নিজেদের অপ্রয়োজনীয় ভাবতে শুরু করেন। এই অবহেলা শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও ক্ষতিকর। ডিপ্রেশনে শরীর দুর্বল ও অসার হয়ে পড়ে, উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, স্ট্রোকের ঝুঁকি তো আছেই। তারা আমাদের কাছে কি চায়? তারা চায় না কিছুÑচায় শুধু একটু ভালোবাসা, একটু শ্রদ্ধা, একটু সান্নিধ্য। প্রতিদিন অন্তত কয়েকটা মিনিট তাদের সঙ্গে কাটানো, অসুস্থ হলে সেবা করা, সামাজিক কার্যক্রমে তাদের যুক্ত রাখাÑএইটুকুই তো। আমরা কি এতটাই ব্যস্ত যে প্রতিদিন কয়েকটা মিনিট এই মানুষগুলোকে সময় দিতে পারি না? আসুন, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই। একটু সময় দিই, একটু গল্প করি, একটু ভালোবাসি। কারণ তারা আমাদের অতীত নয়Ñতারা আমাদের শিকড়।
সাদিয়া আফরিন



