রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমমতামতপাঠকের চিঠিউপকূলে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

উপকূলে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

সম্পর্কিত সংবাদ

প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো বিপর্যস্ত হয়। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে, কোথাও বেড়িবাঁধ উপচে নদীর লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে গ্রামে-গঞ্জে। এতে পানযোগ্য জলের উৎস নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র সুপেয় পানির সংকট। বহু বছর ধরে এই সংকট উপকূলবাসীর জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে। প্রতি বছরই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

উপকূলের অনেক এলাকায় নারীদের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে কলসি ভরে পানি আনতে হয়। একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে দিনে একাধিকবার এই কষ্টসাধ্য যাত্রা করতে হয় তাদের। খাওয়ার জন্য সামান্য মিঠা পানি ব্যবহার করা সম্ভব হলেও রান্না, ধোয়া-মোছা ও অন্যান্য কাজে বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। ফলে পানিবাহিত নানা রোগ-বিশেষ করে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগ-বাড়ছে। পর্যাপ্ত মিঠা পানি না পাওয়ায় মানুষের দেহে পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই সংকট নিরসনে প্রয়োজন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উপকূলীয় এলাকায় বেশি করে রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট স্থাপন এবং চলমান পানি প্রকল্পগুলোর দ্রুত সমাপ্তি জরুরি। নচেৎ সুপেয় পানির অভাবে মানুষ বাধ্য হবে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হতে, যা নগর জীবনে আরও চাপ বাড়াবে।

উপকূলের মানুষ শুধু প্রকৃতির সঙ্গে লড়ছে না, তারা বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একসময় এ অঞ্চল মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

আব্বাসউদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি

আরও খবর