আগে সন্ধ্যা মানেই ছিল পরিবারের আড্ডা। সবাই মিলে একসাথে বসে দিনের গল্প ভাগাভাগি করা, হাসি-ঠাট্টা, মায়ের হাতের চা, বাবার উপদেশ আর ভাই-বোনের মিষ্টি ঝগড়া। এখন সেই সময়টা বদলে গেছে। সবাই একই ঘরে থাকলেও যেন আলাদা একেকটা দুনিয়ায় বন্দী। বাবা-মা, সন্তানরা এক ছাদের তলায় বসে থাকলেও প্রত্যেকের নজর শুধু ছোট স্ক্রিনের দিকে। খোলা মুখের কথা, হাসি বা মনখোলা আড্ডা এখন পুরোনো গল্পের মতো মনে হয়। মোবাইলের উজ্জ্বল আলোয় যেন পারিবারিক বন্ধনের আলো নিভে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন সবকিছুতেই এর অবদান আছে। কিন্তু সমস্যাটা হয় তখনই, যখন প্রযুক্তি পরিবারকে এক করে না বরং আলাদা করে দেয়। আজকাল দেখা যায়, বাবা-মা অফিস থেকে ফিরে সন্তানের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে ফোনে মগ্ন, সন্তানও মায়ের পাশে বসে থাকলেও ফেসবুক বা গেমের জগতে হারিয়ে যায়। একসাথে খাওয়ার টেবিলেও হাসির বদলে শোনা যায় ফোনের রিংটোন। পরিবারের মধ্যে
পরিবারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সাধারণ আড্ডা ও খেলার সময় রাখা।বাবা-মা ও সন্তানেরা একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অনুভূতি ভাগাভাগি করা।ছুটির দিনে পরিবারিক আউটিং বা ঘরের ছোট আয়োজন করতে হবে। পরিবার কেবল রক্তের সম্পর্ক নয়, পরিবার হলো ভালোবাসা, সময় আর বিশ্বাসের সমন্বয়। মোবাইল বা প্রযুক্তি কখনো এই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। যতই আধুনিক হই না কেন, পরিবারই আমাদের শক্তির মূল ভিত্তি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।মোবাইল নয়, আমাদের মনোভাবই সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। সময়, আন্তরিকতা ও ভালোবাসাই পারিবারিক সম্পর্ককে শক্ত করে।
ফারিহা জামান নাবিলা



