বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, গ্রাম, মহল্লা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছেন এমন অসংখ্য মানুষ, যারা জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও টিকে আছেন সাহস, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে। তারা হচ্ছেন আমাদের সমাজের এক বিশাল কিন্তু উপেক্ষিত শক্তি-প্রতিবন্ধী মানুষ।
আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধী মানুষদের সাধারণত করুণার চোখে দেখা হয়। অথচ এদের অনেকেই এমন প্রতিভা, সাহস ও অধ্যবসায় নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সুস্থ-সবল অনেক মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। এই মানুষগুলোর অনেকেই নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে কেউ হুইলচেয়ার নিয়ে চাকরিতে যাচ্ছেন নিয়মিত, কেউ হাত না থাকলেও চিত্র আঁকছেন অসাধারণ দক্ষতায়, আবার কেউ শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। আজ সময় এসেছে, তাদের করুণার নয়, অংশীদার হিসেবে দেখার। সুযোগ ও সমর্থন দিলে, এই মানুষরাই সমাজ ও অর্থনীতির চাকা আরও শক্তভাবে ঘুরাতে পারেন। তারা কেবল “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন” নন, তারা “বিশেষ সক্ষম” নাগরিক-যাদের প্রতিভা, ধৈর্য ও সংগ্রামী মানসিকতা আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
তবে সম্প্রতি অনেক সংগঠন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছে-তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে। অনেকে নিজেরাই হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা, শিক্ষক, অনুপ্রেরণাদাতা। রাজধানী থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে এমন সাফল্যের গল্প, যা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে-“প্রতিবন্ধিতা নয়, মনোবলই আসল শক্তি।” আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে একটু সচেতন হই-রাস্তা, অফিস, স্কুল, কিংবা গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করি-তাহলেই বদলে যেতে পারে ছবিটা। একদিন হয়তো “প্রতিবন্ধী মানুষ” শব্দটি আলাদা করে বলতে হবে না, কারণ সমাজ তখন সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, যেখানে সবাই সমান, সবাই শক্তি।
জান্নাতুল ফেরদাউস অহনা



