হাওয়াই মিঠাই মুখে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহজে মিলিয়ে যায় বলে এর নামকরণ হয়েছে। দেখতে তুলার মতো এই মিষ্টিজাতীয় খাবার শিশু-কিশোর থেকে বড়দের সকলের কাছে আকর্ষণীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯২০ সালে ‘কটন ক্যান্ডি’ নামে পরিচিত হয় এবং ৭ ডিসেম্বরকে জাতীয় কটন ক্যান্ডি ডে হিসাবে পালন করা হয়। যদিও এটি ইউরোপ ও আমেরিকায় জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনো হাওয়াই মিঠাই উৎপাদন ও বিপণন সাধারণভাবে সীমিত এবং প্রধানত মেলা বা রাস্তার ফেরিওয়ালারা বিক্রি করেন।
হাওয়াই মিঠাইয়ে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম রঙ ব্যবহৃত হয়। বিশেষত লাল রঙের হাওয়াই মিঠাইতে ব্যবহৃত রোডামিন-বি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণে এটি লিভার, পাকস্থলী এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, হজম সমস্যা, আচরণগত জটিলতা ও ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়ায় জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। ভারতে ২০২৪ সালে হাওয়াই মিঠাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং বাজারে এটি সহজেই বিক্রি হচ্ছে।
স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্যের দিকে মনোযোগ না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে। তাই স্বাদের চেয়ে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে হাওয়াই মিঠাই উৎপাদন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, এবং অভিভাবক ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়া আবশ্যক।
শরীফুল ইসলাম



